পাকিস্তানে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চীনের উদ্বেগ ও শান্তির আহ্বান
ভারতের সামরিক অভিযানের পর, পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে। চীন দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানকে শান্ত থাকতে এবং যেকোনো সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, "চীন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রয়েছে এবং এ ধরনের উত্তেজনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। ভারত এবং পাকিস্তান এমন প্রতিবেশী দেশ, যাদের একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে বেশ গভীর জড়িত রয়েছে এবং তারা চীনের প্রতিবেশীও।"
তিনি আরও বলেন, "চীন বিশ্বাস করে যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সংযত আচরণ প্রয়োজন, যা দুই দেশের জনগণের স্বার্থের জন্য উপকারী হবে।" চীন এক্ষেত্রে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে বা উস্কানিমূলক কোনো কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি যেন আরও জটিল হয়ে না যায়।
ভারত ও পাকিস্তান, উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং একে অপরের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে আঞ্চলিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনায় জড়িত রয়েছে। এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা চলমান থাকায় চীনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে কোনো সামরিক সংঘর্ষ শুধু ওই দুই দেশের জন্যই বিপজ্জনক নয়, বরং তা সার্বিক আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ হতে পারে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে চীন জানায়, ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশকেই সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। সামরিক সংঘর্ষের একমাত্র ফলাফলই হতে পারে অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতি, যা উভয় দেশকেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিশেষত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও গাজা-ইসরায়েল সংঘর্ষের মতো অন্যান্য চলমান আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যে এমন উত্তেজনা আরো জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা পুরো বিশ্বকেই প্রভাবিত করতে পারে।
চীন তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, “এখনই বিশ্ব আরেকটি সামরিক সংঘর্ষ সহ্য করতে পারবে না। ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাই, ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।” চীনের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শান্তি স্থাপনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সীমান্তের উত্তেজনা সাধারণত স্নায়ু যুদ্ধের মতো থাকে এবং একে অপরকে অপরাধী বানানোর পালা চলে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রায়শই কঠিন হয়ে থাকে, যেখানে আলোচনাসূত্র কখনও কখনও স্থগিত থাকে। তবে, চীনের মতে, উভয় দেশের উচিত এসব সংকটের সমাধান করতে কূটনৈতিক পথ অবলম্বন করা, যাতে বিশ্বে শান্তি বজায় থাকে।
চীন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা যেন কোনো বৈশ্বিক সংকটে পরিণত না হয়। চীনের মতামত, ভারতে এবং পাকিস্তানে শান্তিপূর্ণ আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চীনের কাছে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ হিসেবে দেখছে। চীন দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখার জন্য যথাসম্ভব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে এবং আশা করবে যে, ভারত ও পাকিস্তান তার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |