আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির একটি গুরুত্বপূর্ণ আপিল আবেদন ফেরত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বহুল আলোচিত ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের (আল-কাদির ট্রাস্ট) দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তি না করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের (IHC) দেওয়া একটি আদেশের বিরুদ্ধে এই আপিল দায়ের করা হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস এই আপিলের ওপর কিছু আইনি আপত্তি তুলে তা শুনানির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ফেরত পাঠায়।
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ (The Express Tribune) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিসের উত্থাপিত আপত্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এই সুনির্দিষ্ট আদেশের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা যাবে না। এর জন্য যথাযথ আইনি ফোরাম হলো পাকিস্তানের নবগঠিত ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট’ (FCC)।
তবে ইমরান খান ও বুশরা বিবির প্রধান আইনজীবী সালমান সাফদার (Salman Safdar) রেজিস্ট্রার অফিসের এই আপত্তির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, পাকিস্তানের সংবিধানের ১৮৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে এই আপিলটি দায়ের করার সুযোগ রয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।
আবেদনে পিটিআই-এর লিগ্যাল টিম উল্লেখ করে, ১৯৯৯ সালের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অর্ডিন্যান্সের (NAO) ৩২এ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টে (এফসিসি) দ্বিতীয় আপিলের বিধান রয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বা সাজা স্থগিতের আবেদনের আদেশের বিরুদ্ধে এফসিসিতে আপিল করার কোনো স্পষ্ট বা বাধ্যতামূলক আইনি নির্দেশনা এনএও-তে নেই। ফলে সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ প্রতিকারের অনুপস্থিতিতে হাইকোর্টের এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করার একমাত্র উপযুক্ত ও চূড়ান্ত ফোরাম হলো পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।
এর আগে মে মাসের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ইমরান খানের সাজা স্থগিতের আবেদনটি এই যুক্তিতে নিষ্পত্তি বা স্থগিত করে দেয় যে—মূল আপিলের শুনানির তারিখ ইতিমধ্যে নির্ধারিত হওয়ায় আলাদাভাবে সাজা স্থগিতের আবেদন বিবেচনার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা: সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা এই আপিল আবেদনে ইমরান খান প্রথমবার নিজের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকা অবস্থায় তিনি গুরুতর চোখের সমস্যায় (Eye Infection/Issue) আক্রান্ত হন এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে সাময়িকভাবে কারাগারের বাইরেও নিয়ে যেতে হয়েছিল।
সাবেক এই বিশ্বজয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে বন্দি রাখা সম্পূর্ণ অন্যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী নির্জন কারাবাস (Solitary Confinement) তাকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাজা স্থগিতের আবেদনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে। তথ্য-প্রমাণের প্রাথমিক মূল্যায়ন ছাড়া আবেদনটি খারিজ করা আদালতের বড় ভুল ছিল। এছাড়া রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থা ‘ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো’ (NAB) বারবার আদালতের কাছে সময় চেয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করেছে। ইমরান খান পুনর্ব্যক্ত করেন যে—তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে এই মামলায় যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি, নজিরবিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মূল ঘটনা: ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতি মামলায় ইমরান-বুশরার আপিল ফেরত দিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।
রেজিস্ট্রারের আপত্তি: এই মামলার আপিল সুপ্রিম কোর্টে নয়, করতে হবে ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টে (FCC)।
আইনজীবীদের পাল্টা যুক্তি: জামিন বা সাজা স্থগিতের ক্ষেত্রে এফসিসিতে যাওয়ার কোনো স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা সংবিধানে নেই।
শারীরিক অবস্থা: কারাগারে চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ইমরান খান; নির্জন কারাবাসে মানসিক যন্ত্রণার অভিযোগ।
হাইকোর্টের অবস্থান: মূল আপিলের শুনানি চলায় সাজা স্থগিতের আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করেনি ইসলামাবাদ হাইকোর্ট।
স্টাফ রিপোর্টার | আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ
রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইমরান খানের সর্বশেষ স্বাস্থ্য আপডেট, ইসলামাবাদে পিটিআই (PTI) নেতা-কর্মীদের আইনি বিক্ষোভ, ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানের রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |