বিমানের উড়োজাহাজ ক্রয়ে সরকারের সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না: বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নের জন্য নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ে সরকারের রাজকোষ থেকে সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, বিমান একটি লাভজনক ও স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব আয় থেকেই পর্যায়ক্রমে এই বিমানের দাম পরিশোধ করবে; এ ক্ষেত্রে সরকার কেবল আর্থিক গ্যারান্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বিমান ক্রয় প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
সভায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়ন এবং নতুন উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিমানকে একটি অত্যন্ত আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তুলতে বেশ কিছু কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে, নতুন করে ৩৫টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী।
এ সময় তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, “যদি এখনই নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের সুনির্দিষ্ট চুক্তি সম্পন্ন করা না হয়, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিমান চরম উড়োজাহাজ সংকটের মুখে পড়বে। কারণ, উৎপাদক প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন কেনা উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হতে সাধারণত প্রায় ১০ বছরের মতো দীর্ঘ সময় লেগে যায়। আর ততদিনে বিমানের বর্তমান বহরের পুরনো উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ‘গ্রাউন্ডেড’ বা কর্মক্ষমহীন হতে শুরু করবে।”
বিগত সরকারের অনিয়ম ও জবাবদিহিতা
বিগত দুই দশকে রাষ্ট্রীয় খাতের নানা অনিয়মের সমালোচনা করে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “গত ২০ বছরে প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় বহু অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার যেকোনো ধরনের সরকারি কেনাকাটায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
অতীতে সংঘটিত সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নীতি অত্যন্ত কঠোর—‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সরকার অটল রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রমে গতি ও স্বচ্ছতা আনতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ে পরিকল্পনা
সভায় উত্তরবঙ্গের বহুল প্রত্যাশিত বগুড়া বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প প্রসঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আনুমানিক ২০০০ একর বিস্তীর্ণ জমির প্রয়োজন রয়েছে। সেখানে অতি আধুনিক ওয়াইড বডি এয়ারক্রাফট বা বড় আকারের বিমান নিরাপদে অবরোহণ ও উড্ডয়নের উপযোগী একটি দীর্ঘ রানওয়ে প্রস্তুতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
সভা শেষে দেশের এভিয়েশন খাতের মান উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতের প্রসারে মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন