বিদেশে বিএনপির কোনো প্রভু নেই যে দেশ ছেড়ে পালাবে: রুহুল কবির রিজভী
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব / ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিদেশে বিএনপির এমন কোনো প্রভু বা আশ্রয়দাতা নেই যে দলের নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে। এ দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর কোর্ট হাউজ স্ট্রিট এলাকার ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক রাজনৈতিক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান দেশের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, “আজ একদিকে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, অন্যদিকে আরেকটি রাজনৈতিক পক্ষ সেই পরাজিতদের সঙ্গে গোপনে ও প্রকাশ্যে একত্রিত হয়েছে। তবে বিএনপি এসব চক্রান্ত তোয়াক্কা না করে এ দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমরা এ দেশ ছেড়ে পালাব না। বিদেশে আমাদের কোনো প্রভু নেই যারা আমাদের আশ্রয় দেবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই আমরা এ দেশের স্বাধীন-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।”
বিগত বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা ও আইনজীবীদের অবদান
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলের তীব্র সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনার সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন শাসনামলে আমরা আদালতের এই আইন প্রাঙ্গণেই কিছুটা হলেও আইনি আশ্রয় পেয়েছিলাম। বিগত ১৭ বছর ধরে এই আদালতপাড়ার আইনজীবীদের সম্মিলিত সাহসী প্রতিবাদই ছিল আমাদের মূল সহায়। তবে সে সময় ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারকদের একাংশ শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিলেন। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) কাজল আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামনে অত্যন্ত বেয়াদবের মতো ঔদ্ধত্য নিয়ে বসে থাকতেন।”
সমমনা দলগুলোর লংমার্চ ও ৭ দফা নিয়ে তীব্র আক্রমণ
সম্প্রতি মাঠে থাকা সমমনা ও শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আজকে যারা বিরোধী দলের রাজনীতি করছেন, তাঁদের সাম্প্রতিক ভূমিকা সত্যিই বিস্ময়কর। তারা নানাভাবে বাজারে রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছেন। সংস্কারের নামে তারা কী বোঝাতে চাচ্ছেন, আমরা সেটার কোনো হদিস বা যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি না। জামায়াতের আমির বলছেন নাকি ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা মারছে’! আপনারা বিপ্লবের বড় বড় কথা বলছেন, অথচ আপনাদের রাজনৈতিক ইতিহাস তো কেবলই আত্মসমর্পণ আর স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।”
১১-দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ৭ দফা ও এক দফার হুশিয়ারি প্রসঙ্গে রিজভী আরও বলেন, “সাত দফা দাবি না মেনে নিলে এক দফার ভয় আপনারা কাকে দেখাচ্ছেন? রাজপথ কি কারও পৈতৃক সম্পত্তি বা মৌরশি পাট্টা করে দেওয়া হয়েছে? বিগত ১৭ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন রাজপথের সংগ্রাম ও রক্তদান করেছে বিএনপি, বিএনপি এখন কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মানতে বিএনপির কোনো অনীহা বা অস্বীকৃতি নেই। তবে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) ইস্যুগুলোর সমাধান কোনো লংমার্চ বা উত্তাপ ছড়িয়ে নয়, একমাত্র সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমেই হতে হবে।”
দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির গভীর চক্রান্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তারেক রহমান দেশকে নিজের পায়ে স্বাবলম্বী করে দাঁড় করানোর একের পর এক ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেন। অথচ এসব উন্নয়ন ও সংস্কারকে অগ্রাহ্য করে বর্তমানে গার্মেন্টস আন্দোলনের নামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দোসরদের ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।”