| বঙ্গাব্দ

পেন্টাগনের কালো তালিকার বিরুদ্ধে মামলা করল চীনা জায়ান্ট আলিবাবা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-06-2026 ইং
  • 6521 বার পঠিত
পেন্টাগনের কালো তালিকার বিরুদ্ধে মামলা করল চীনা জায়ান্ট আলিবাবা
ছবির ক্যাপশন: আলিবাবা

চীনা সামরিক তকমা দিয়ে আলিবাবা-বাইদুকে কালো তালিকাভুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র; ‘অপমানজনক’ দাবি বেইজিংয়ের জায়ান্টদের

আন্তর্জাতিক ও প্রযুক্তি বাণিজ্য ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬

চীনের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি ও ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপ মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে একটি হাই-প্রোফাইল ফেডারেল মামলা দায়ের করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) কর্তৃক আলিবাবাকে সম্পূর্ণ একতরফাভাবে ‘চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ব্ল্যাকলিস্টে (কালো তালিকা) অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে এই আইনি পদক্ষেপ নেয় গ্লোবাল টেক জায়ান্টটি।

গত ৮ জুন পেন্টাগন কথিত ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’র (Chinese Military Companies) তালিকাটি এক ধাক্কায় সম্প্রসারিত করে মোট ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার পর ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে ফেডারেল আদালতে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে আলিবাবা। মূলত বেইজিং প্রশাসন তার দেশের বেসরকারি খাতের উচ্চ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে নিজস্ব সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে—এমন চরম আশঙ্কার জায়গা থেকেই ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্ল্যাকলিস্ট বড় করার নীতি গ্রহণ করেছে।

‘সামরিক-বেসামরিক ফিউশন’ ও পেন্টাগনের গুরুতর অভিযোগ

পেন্টাগনের দাপ্তরিক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (MIIT) সঙ্গে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আলিবাবা মূলত দেশটির মূল প্রতিরক্ষা শিল্প ঘাঁটির একটি চালিকাশক্তি বা ‘সামরিক-বেসামরিক ফিউশন অবদানকারী’ (Military-Civil Fusion Contributor) হিসেবে পর্দার আড়ালে কাজ করছে। এ ছাড়া আলিবাবা পরোক্ষভাবে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থা ‘সাসাক’ (SASAC)-এর বাণিজ্যিক এজেন্ডার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।

পেন্টাগনের এই সংবেদনশীল দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে আলিবাবা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, "যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের কোনো বাস্তবিক বা আইনি ভিত্তি নেই। আলিবাবা একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যাদের কারোরই কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাদের উন্নত পণ্য ও আধুনিক ক্লাউড পরিষেবাগুলো মূলত সাধারণ খুচরা ব্যবসা, গ্লোবাল লজিস্টিকস এবং এন্টারপ্রাইজ ইনফরমেশন টেকনোলজির জন্য তৈরি করা হয়েছে—কোনো ধরনের অস্ত্র, প্রতিরক্ষা বা গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য নয়।" দায়েরকৃত এই মামলায় আলিবাবা অবিলম্বে এই বিতর্কিত ব্ল্যাকলিস্ট থেকে তাদের নাম সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আইনি দাবি জানিয়েছে। তবে চলমান মামলার আইনি জটিলতার কারণে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র।

তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাইদু ও বিওয়াইডি-ও, ২০২৭ থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

সাম্প্রতিক পাস হওয়া কঠোর মার্কিন আইন অনুযায়ী, এই ব্ল্যাকলিস্টে থাকা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চলতি জুন মাস থেকেই মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তি বা প্রকিউরমেন্ট করতে পারবে না। এ ছাড়া, পরবর্তী ধাপ হিসেবে ২০২৭ সাল থেকে কোনো তৃতীয় পক্ষের (Third-party) মাধ্যমেও এসব কোম্পানির তৈরি পণ্য বা প্রযুক্তি সেবা কেনা মার্কিন সরকারের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই কোম্পানির ওপর সরাসরি কোনো আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanction) জারি হওয়া নয়।

চলতি জুনে আলিবাবা ছাড়াও এই মার্কিন ব্ল্যাকলিস্টে যুক্ত হয়েছে চীনের একচেটিয়া জনপ্রিয় ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন ‘বাইদু’ (Baidu), শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিওয়াইডি’ (BYD) ও ‘নিও’ (Nio) এবং বিখ্যাত বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ‘উক্সি অ্যাপটেক’ (WuXi AppTec)। উক্সি অ্যাপটেকও গত ১১ জুন আলিবাবার মতোই মার্কিন সরকারের অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা লড়ছে।

‘অপ্রত্যাশিত ও অপূরণীয় ক্ষতি’র মুখে আলিবাবা

পেন্টাগনের এই একচেটিয়া সিদ্ধান্তকে ‘স্বেচ্ছাচারী, বৈষম্যমূলক ও খামখেয়ালি’ আখ্যা দিয়ে আলিবাবা জানিয়েছে, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানিটি ইতিমধ্যে অপূরণীয় ব্যবসায়িক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

আদালতের মামলার নথিতে আলিবাবা স্পষ্ট উল্লেখ করেছে, "বহু নামী মার্কিন ব্যবসায়ের জন্য আলিবাবাই হলো চীনের বিশাল কনজিউমার মার্কেটে প্রবেশের একমাত্র প্রধান প্রবেশদ্বার। আলিবাবাকে হুট করে ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অর্থ হলো এটিকে বৈশ্বিক ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক কৃত্রিম হুমকি হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা। এই কাল্পনিক তকমা আলিবাবার বিশ্বস্ত বৈশ্বিক সুনামকে সরাসরি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোম্পানির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর একটি নেতিবাচক কালো ছায়া ফেলেছে।" ভারতের এনডিটিভি (NDTV) সূত্রের বরাত দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার রায় ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান প্রযুক্তি যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

এক নজরে পেন্টাগনের বিরুদ্ধে আলিবাবার মামলার বিবরণ (জুন, ২০২৬)

  • মামলা দায়েরের স্থান: ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে ফেডারেল আদালত।

  • মামলার মূল কারণ: আলিবাবাকে ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করা।

  • পেন্টাগনের তালিকা সম্প্রসারণ: মোট ১৮৮টি চীনা প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্তকরণ (৮ জুন)।

  • অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত বড় কোম্পানি: সার্চ ইঞ্জিন বাইদু, ইভি জায়ান্ট বিওয়াইডি ও নিও এবং উক্সি অ্যাপটেক।

  • কঠোর মার্কিন আইনি নিষেধাজ্ঞা: চলতি মাস থেকে পেন্টাগন এদের সাথে কোনো চুক্তি করবে না এবং ২০২৭ থেকে তৃতীয় পক্ষ মারফত কেনাকাটাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

  • আলিবাবার মূল আত্মপক্ষ সমর্থন: পণ্য ও সেবা কেবল খুচরা ব্যবসা ও লজিস্টিকসের জন্য; কোনো অস্ত্র বা গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টতা নেই।

আলিবাবা বনাম পেন্টাগন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ, মার্কিন আইনি নিষেধাজ্ঞার মুখে বাইদু ও বিওয়াইডি-র শেয়ার বাজারের আপডেট, ওয়াশিংটন-বেইজিং বাণিজ্য যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খবরের দ্রুত ও নিখুঁত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency