| বঙ্গাব্দ

পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশই তিন মৌলিক পণ্যে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-10-2026 ইং
  • 89568 বার পঠিত
পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশই তিন মৌলিক পণ্যে
ছবির ক্যাপশন: পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশই তিন মৌলিক পণ্যে

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬.১০%, আয় ছাড়াল ১০৫৮ কোটি ডলার

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে সুসংবাদ নিয়ে এসেছে। আলোচিত এই সময়ে পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থের অঙ্কে এই সময়ে মোট রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৯৭ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশের পোশাক খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস’ (বিএভি)-এর সংকলিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে পোশাক খাতের এই ইতিবাচক ও চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে।

তবে পরিসংখ্যান বিশ্লষণ করলে দেখা যায়, এই সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির সিংহভাগ বা প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়েই রয়েছে মাত্র তিনটি প্রচলিত মৌলিক পোশাকপণ্য। এই পণ্যগুলো হলো—প্যান্টসহ বিভিন্ন ধরনের বটমওয়্যার, সোয়েটার ও কার্ডিগান এবং টি-শার্ট ও ভেস্ট। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্য সংযোজনকারী উন্নত ও আধুনিক পোশাকপণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত সীমিত রয়েছে এবং মোট রপ্তানিতে এসব পণ্যের অংশও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

মৌলিক পণ্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কেবল মৌলিক ধরনের পোশাকপণ্য রপ্তানি করেই দেশের আয় হয়েছে ৮২৬ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতে রপ্তানি আয় ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। এককভাবে এই শ্রেণির পণ্য থেকেই অতিরিক্ত আয় এসেছে ৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৯৪ শতাংশের সমান।

এর ফলে মোট পোশাক রপ্তানিতে মৌলিক পণ্যের আধিপত্য আরও বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট রপ্তানিতে মৌলিক পণ্যের অংশ যেখানে ছিল ৭৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ০৬ শতাংশে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সামগ্রিক কাঠামো ক্রমেই নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক পণ্যনির্ভর হয়ে উঠছে।

পণ্যভিত্তিক খতিয়ান: কোন খাতে কেমন আয়? পণ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়—

  • বটমওয়্যার: এ খাত থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে সর্বোচ্চ ২০ কোটি ১০ লাখ ডলার।

  • সোয়েটার ও কার্ডিগান: এ পণ্যগুলো থেকে অতিরিক্ত আয় এসেছে ১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

  • টি-শার্ট ও ভেস্ট: এ বিভাগ থেকে রপ্তানি বেড়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এই তিন শ্রেণির প্রধান পণ্য মিলিয়ে মোট রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, প্রবৃদ্ধির হারের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে শিশুদের পোশাক। এ শ্রেণির পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে তুলনামূলকভাবে এ খাতে মোট আয়ের পরিমাণ কিছুটা কম; প্রথম প্রান্তিকে শিশুদের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩০ কোটি ডলার।

শার্ট-ব্লাউজে প্রবৃদ্ধি সামান্য ও শ্লথ মৌলিক পণ্যের বাইরে আধা-মৌলিক পোশাকের তালিকায় থাকা শার্ট ও ব্লাউজ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির গতি বেশ ধীর। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এ শ্রেণির পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি।

আয় সামান্য বাড়লেও মোট পোশাক রপ্তানিতে শার্ট ও ব্লাউজের অবদান বা অংশীদারত্ব কিছুটা কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট রপ্তানিতে এ খাতের অংশ ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা এবার কমে নেমে এসেছে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশে। অর্থাৎ, রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক পোশাক রপ্তানিতে এ পণ্যের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ওজন হ্রাস পেয়েছে।

উন্নত পোশাকপণ্যে প্রবৃদ্ধি সীমিত ও নেতিবাচক ধারা তুলনামূলকভাবে উন্নত, বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পোশাকপণ্যের রপ্তানি পরিস্থিতি বেশ শ্লথ। প্রথম প্রান্তিকে এ শ্রেণির পণ্য থেকে মোট আয় হয়েছে ১৪৮ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। অর্থের হিসেবে এই খাতে আয় বেড়েছে মাত্র ২ কোটি ১০ লাখ ডলার।

উন্নত পণ্যের এই বিভাগের মধ্যে আউটারওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং টেকনিক্যাল ওয়্যার বা বিশেষ কারিগরি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেড়েছে। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পণ্যে রপ্তানি আয় উল্টো কমে গেছে। যেমন—ড্রেস রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ১০ দশমিক ছিয়ানব্বই শতাংশ, স্পোর্টসওয়্যার ও অ্যাকটিভওয়্যারে কমেছে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং স্যুট ও এনসেম্বলসের ক্ষেত্রে বড় ধস নেমে কমেছে ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উন্নত পোশাকপণ্যের সামগ্রিক অংশের ওপর। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট পোশাক রপ্তানিতে এ শ্রেণির অবদান ছিল ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশে।

প্রবৃদ্ধি থাকলেও বৈচিত্র্য বাড়ানোর বড় চ্যালেঞ্জ চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের এই তথ্য স্পষ্ট করে দেয় যে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মোট আয় বাড়লেও এর মূল চালিকাশক্তি এখনো সেই প্রচলিত ও মৌলিক পণ্যগুলোই। বটমওয়্যার, সোয়েটার ও টি-শার্টের মতো নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ভালো আয় এলেও উন্নত ও আধুনিক ধরনের কয়েকটি পণ্যে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি উদ্বেগজনক। সামগ্রিকভাবে উন্নত শ্রেণির পণ্য রপ্তানির শ্লথ গতি দেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় একটি চিন্তার বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু প্রবৃদ্ধির সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, বরং পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী বিশেষায়িত পোশাকের বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। প্রচলিত মৌলিক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে উন্নত ও আধুনিক পোশাকের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বহুগুণ সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency