| বঙ্গাব্দ

যশোরে ফুচকা খেয়ে দুই শতাধিক মানুষ অসুস্থ, বিক্রেতা মনির হোসেন গ্রেফতার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-04-2025 ইং
  • 4934809 বার পঠিত
যশোরে ফুচকা খেয়ে দুই শতাধিক মানুষ অসুস্থ, বিক্রেতা মনির হোসেন গ্রেফতার
ছবির ক্যাপশন: যশোরে ফুচকা খেয়ে দুই শতাধিক মানুষ অসুস্থ, বিক্রেতা মনির হোসেন গ্রেফতার

যশোরে ফুচকা খেয়ে দুই শতাধিক মানুষ অসুস্থ, বিক্রেতা মনির হোসেন গ্রেফতার

যশোরের অভয়নগরে ফুচকা খেয়ে দুই শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় ফুচকা বিক্রেতা মনির হোসেন (২৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মিন্টুর ছেলে মনির হোসেনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত:

৩১ মার্চ ঈদের দিন অভয়নগরের দেয়াপাড়া ভৈরব নদীর পূর্ব পাড়ে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি অস্থায়ী ফুচকা ও চটপটি বিক্রির দোকান বসিয়েছিলেন। সেইদিন নদীর পাড়ে ঘুরতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুরা তার দোকান থেকে ফুচকা খেয়েছিলেন।

প্রথমে বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও রাত বাড়ার সাথে সাথে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। গভীর রাত থেকেই ফুচকা খাওয়া ব্যক্তিরা পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়ার মতো উপসর্গে আক্রান্ত হতে শুরু করেন। পরদিন পর্যন্ত অসুস্থদের মধ্যে দুই শতাধিক মানুষ অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযানের পর পুলিশ জানায় যে, ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে মনির হোসেনকে আটকে অভিযান চালানো হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও অসুস্থ ব্যক্তিরা হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকেন, যার ফলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।

পুলিশি অভিযান ও গ্রেফতার:

পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাশ জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বুধবার রাতে মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া থেকে মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী তানজিম হোসাইন।

গ্রেফতারকৃত মনির হোসেনকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ জানায়, তিনি তার দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ফুচকা বিক্রি করছিলেন, যা মানুষের অসুস্থতার জন্য দায়ী বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:

এ ঘটনার পর স্থানীয়রা খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অসুস্থদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা অনেকেই ছিলেন, যার ফলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, এমন অপরিকল্পিত খাদ্য বিক্রির কারণে মানুষের জীবন সংকটে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করা জরুরি।

এছাড়া, এলাকার স্বাস্থ্য কর্মীরা জানাচ্ছেন, ফুচকা তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা ও অপরিষ্কার পরিবেশই এই ধরনের অসুস্থতার কারণ হতে পারে। তারা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য বিক্রির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।

অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপ:

এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন যে, এ ধরনের খাবারের দোকানগুলো যথাযথ অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে এবং সঠিক খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আরও গভীর তদন্ত করবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করবে।

এটি ছিল একটি বড় ঘটনা, যা শুধু যশোরের অভয়নগর এলাকায় নয়, সারা দেশে খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্বের ওপর নতুন আলো ফেলেছে। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency