বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড়—সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে চারটি জোট ও ৩৫টি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত জাতীয় সংস্কার জোট।
২১ জুন ২০২৫, শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত “জুলাই সনদ, সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন” শীর্ষক আলোচনা সভায় এই ঘোষণা দেন জোটের নেতারা।
তাদের মতে, নির্বাচন একমাত্র সমাধান নয়, বরং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার, স্বচ্ছতা ও বিচার প্রতিষ্ঠা।
জোটের আহ্বায়ক মেজর আমীন আহমেদ আফসারী (অব.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা বলেন:
“সংস্কার আগে, নির্বাচন পরে”—এটাই হবে পরবর্তী রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল দাবি
“জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিস্টদের বিদায় করেছি। এখানেই বিভাজন তৈরি করা যাবে না।”
“একটি দল মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করছে। জনগণের চাওয়া নয়, অর্থই নিয়ন্ত্রণ করছে রাজনীতি।”
“বর্তমান ব্যবস্থা প্রজা তৈরি করে, নাগরিক নয়।”
তাদের মতে, যে ধরনের নির্বাচন দেশে এতদিন হয়েছে তা দুর্নীতিবাজ, দখলবাজ এবং ক্ষমতালিপ্সুদের উৎসব ছাড়া আর কিছু নয়।
জুলাই আন্দোলন (কাল্পনিক হলেও এখানে প্রয়োগ করা হলো জনগণের জাগরণের প্রতীক হিসেবে), জাতীয় সংস্কার জোটের ভাষায় ছিল:
ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধ
বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সামাজিক জাগরণ
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার দাবি
এই আন্দোলন থেকেই তারা আজ “সংবিধানিক ও কাঠামোগত সংস্কার”কে রাজনৈতিক সংগ্রামের কেন্দ্রে আনছে।
বিগত নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল, প্রশাসনের পক্ষপাত ইত্যাদি জনগণের আস্থা নষ্ট করেছে।
তাই রাজনৈতিক দলগুলো বলছে—“কেবল নির্বাচন নয়, নির্বাচন ব্যবস্থাই বদলাতে হবে।”
নেতারা অভিযোগ করেন—রাজনীতির জায়গা এখন দুর্নীতিবাজদের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“আমরা কি প্রজা, না নাগরিক?”—এই প্রশ্ন তুলে বক্তারা রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
নাগরিক চেতনা মানে জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।
নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা দৃশ্যমান হবে
নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে গণআলোচনা শুরু হবে
বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাতীয় সংস্কার জোট রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে
বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব
গণমানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করা এবং সংগঠন শক্তিশালী করা
সংস্কার দাবির বাস্তবায়নে আইনি কাঠামো ও সাংবিধানিক বাধা
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন:
লে. জেনারেল আমিনুল করিম (অব.), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস
গোলাম সরোয়ার মিলন, জনতার দল বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান
মেজর জেনারেল আ ম সা আ আমিন (অব.), নৈতিক সমাজের সভাপতি
শেখ সালাউদ্দিন সালু, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)
খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনডিপি চেয়ারম্যান
শওকত মাহমুদ, জনতার পার্টির মহাসচিব
আরও ৩০+ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা
জাতীয় সংস্কার জোটের “সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয়” ঘোষণা বর্তমান রাজনীতিতে একটি বিকল্প গণতান্ত্রিক রূপরেখার সন্ধান দিচ্ছে।
তারা শুধু একটি দলবিরোধী অবস্থান নেয়নি, বরং নির্বাচনের পদ্ধতি, কাঠামো ও জবাবদিহিতার সংস্কারকে আন্দোলনের কেন্দ্রে এনেছে।
এই দাবি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা নির্ভর করবে জনগণের সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শিতার ওপর।
Q1: জাতীয় সংস্কার জোট কী চায়?
A: সাংবিধানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের পর নির্বাচন আয়োজন।
Q2: তারা নির্বাচন বর্জন করবে?
A: না, তারা বলছে নির্বাচন হতে হবে—but সংস্কার ছাড়া নয়।
Q3: “জুলাই আন্দোলন” কী?
A: এটি সরকারের বিরুদ্ধে জনজাগরণ এবং রাজনৈতিক সংস্কার দাবির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
Q4: প্রধান অভিযোগ কী?
A: ভোট বাণিজ্য, মনোনয়ন কেনাবেচা, নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত এবং গণতন্ত্রহীনতা।
Q5: তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
A: জনগণের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে সরকারকে সংস্কারের পথে আনতে চাপ তৈরি করা।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |