প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে মেয়র পদে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানি'র চমকপ্রদ জয় শুধু মার্কিন রাজনীতিতে নয়, দক্ষিণ এশীয় প্রেক্ষাপটেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রগতিশীল এজেন্ডা—যেমন বাস ভাড়া স্থগিত, শিশু সেবা ফান্ড ও নিখরচা গণপরিবহন—নিয়ে প্রার্থী হয়ে, সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করেন তিনি।
কিন্তু এই জয় মামদানিকে যেমন উৎসাহ দিয়েছে, তেমনি এনেছে ধর্মীয় বিদ্বেষ, রাজনৈতিক আক্রমণ ও আন্তর্জাতিক বিতর্ক।
মামদানি ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গাকে ‘মুসলিম গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেন। সেই দাঙ্গার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মামদানি প্রকাশ্যে মোদিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলায় চরম হিন্দুত্ববাদীদের রোষের মুখে পড়েন।
ভারতের বিজেপি সমর্থিত গোষ্ঠী, প্রবাসী হিন্দু ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিক-রাজনীতিকদের একটি অংশ মামদানির বিরুদ্ধে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। ভারতের বিজেপি এমপি কঙ্গনা রানাউত এমনকি মামদানির বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য দিয়ে টাইমস স্কয়ারে রাম-অপমানের অভিযোগও তোলেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসেও আমরা দেখেছি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক মতবাদের সংঘাত কীভাবে রাজনীতিকে প্রভাবিত করে এসেছে:
১৯৭১: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল একটি মূল আদর্শ।
১৯৭৫: বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযুক্ত হয়।
২০০৮–২০২4: রাজনৈতিক মেরুকরণ, জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে—বাংলাদেশ রাজনীতিকে প্রভাবিত করে।
২০২৫: বাংলাদেশেও প্রবাসী রাজনীতি নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করছে, যেখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা বিদেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে কিন্তু তাদের পরিচয় নিয়েও নানা বিতর্ক চলছে।
‘জিহাদি জোম্বি’, ‘নিউইয়র্ক হবে পাকিস্তান’—এমন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং ইসলামোফোবিয়া ও জাতিগত পরিচয় রাজনীতির নিদর্শন।
তবে মামদানির পক্ষে মুখ খুলেছেন অনেকেই:
সুনীতা বিশ্বনাথ (হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস): “ঘৃণা নয়, আমরা ঐক্য চাই।”
অড্রে ট্রুশকে (রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়): “হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ নিউইয়র্কবাসীদের ধোঁকা দিতে পারবে না।”
মানান আহমেদ (কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়): “মামদানি এখন এক নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যারা ধর্মীয় জাতীয়তাবাদকে চ্যালেঞ্জ করছেন।”
মামদানিকে ঘিরে ট্রাম্প-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা, যেমন:
“গ্লোবাল ইনতিফাদা থেকে নিউ ইয়র্ক সিটি বাঁচাও” ব্যানার টানানো, প্রমাণ করে বৈশ্বিক ফ্যাসিবাদী জোটের উপস্থিতি।
জোহরান মামদানি বাংলাদেশি ও পাঞ্জাবি হিন্দু সম্প্রদায়সহ বহু প্রগতিশীল প্রবাসীর সমর্থন পেয়েছেন। DRUM (Desis Rising Up and Moving) এর নির্বাহী ফাহদ আহমেদ বলেন:
“মামদানি হচ্ছেন এমন এক প্রার্থী, যিনি ধর্ম নয়, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান। এটাই তাকে হুমকি করে তোলে।”
জোহরান মামদানি কেবল একজন প্রার্থী নন। তিনি প্রতিনিধিত্ব করছেন সেই মানুষদের—যারা বর্ণবাদ, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক চাতুরীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চান। তিনি বিপ্লবী, তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |