জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস স্থাপনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ‘ইসলামী মূল্যবোধে হস্তক্ষেপ’ আশঙ্কা ইসলামী সংগঠনগুলোর
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৫
সূত্র: সমকাল
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক অফিস ঢাকায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত এবং ইসলামপন্থীদের 'জঙ্গি' তকমা দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে একাধিক ইসলামী সংগঠন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই অফিস ইসলামী মূল্যবোধবিরোধী কার্যক্রম চালাতে পারে।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
পরবর্তীতে ইন্তিফাদা বাংলাদেশ একই স্থান থেকে মিছিল বের করে এবং মতিঝিল শাপলা চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে।
অস্থায়ী মঞ্চে বক্তৃতা দিতে এসে আলেম সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন,
“বিগত হাসিনা সরকার ইসলামপন্থীদের দমন করেছে, ইসলামি বক্তাদের ওপর ভিত্তিহীন মামলা দিয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেই একই নীতির অনুসরণ করছে।”
তারা আরও অভিযোগ করেন,
“ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তাদের জঙ্গি তকমা দিয়ে যেভাবে দমন করা হয়েছে, তা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের আবেগ-অনুভূতির উপর আঘাত।”
সমাবেশ থেকে সরকারের উদ্দেশে জাতিসংঘ অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানানো হয়, অন্যথায় আরও বড় পরিসরে আন্দোলনের ঘোষণা দেন নেতারা।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে হলেও, ১৯৮৮ সালে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
২০০১–২০০৬ মেয়াদে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার অংশীদার হয়, এবং ইসলামি বক্তৃতা ও মিডিয়া অঙ্গনে ইসলামপন্থীদের প্রভাব বাড়ে।
২০১৩ সাল থেকে শাপলা চত্বরের আন্দোলনের পর, ইসলামি সংগঠনগুলো রাষ্ট্রীয় চাপে পড়ে। অনেক বক্তা, আলেম ও প্রতিষ্ঠানকে ‘জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা’ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগে মামলা ও গ্রেফতারের মুখে পড়তে হয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল বাংলাদেশ গঠনের কথা বললেও, ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর দাবি—সেটি বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
এই বিক্ষোভ শুধু জাতিসংঘ অফিস স্থাপন বা 'জঙ্গি' তকমার বিরুদ্ধে নয়—বরং এটি বাংলাদেশের ধর্মীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ অবস্থান, রাষ্ট্র-ধর্ম সম্পর্ক এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ইসলামপন্থীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক সংস্থার উপস্থিতিতে সংস্কৃতি, ধর্ম ও নীতির ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা প্রতিহত করবেন।
এই পরিস্থিতি সামনে রেখে সরকার কী ধরনের অবস্থান নেয়, তা পরবর্তী সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—বিশেষ করে আগামী নির্বাচন ঘিরে ধর্মভিত্তিক শক্তিগুলোর ভূমিকা পুনর্বিবেচনার আলোকে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |