প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিচয় ও অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এর নদীনালা ও জলাশয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব, অবৈধ নদী দখল, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পলি জমে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এই নদীই যেন দেশের লাখ লাখ মানুষের জন্য স্থায়ী সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাগাতার নদীভাঙনে উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ড ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে; প্রতিবছর বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ ও হাজার হাজার একর ফসলি জমি। গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হয়ে মানুষ এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রচণ্ড বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
এমন বাস্তবতায় নদীভাঙন রোধ ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে দেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নদী ও খাল খননের এক বৃহৎ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রকল্প গ্রহণই যথেষ্ট নয়; বরং নদীভাঙন প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় বহুমুখী ও সুদূরপ্রসারী কৌশল বাস্তবায়ন করা জরুরি:
১. তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা: দীর্ঘমেয়াদি বা বড় প্রকল্পের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অপেক্ষায় না থেকে চরম ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ (Geo Bags) ও বাঁশের বান্ডলিং পদ্ধতির সঠিক ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ২. সীমানা পুনরুদ্ধার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ: পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিপুল পরিমাণ জমি অবৈধ দখলে থাকায় নদী ও খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ রুদ্ধ হচ্ছে। অবিলম্বে সিএস (CS) ও আরএস (RS) রেকর্ড নিখুঁতভাবে যাচাই করে উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে নদী-খালের সীমানা পুনরুদ্ধার করতে হবে। ৩. পরিকল্পিত ড্রেজিং ও অবকাঠামো: অপরিকল্পিত বাঁধ ও অকার্যকর স্লুইসগেটের কারণে সৃষ্ট স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে তোলা পলি বা বালু যেন কোনো অবস্থাতেই কৃষিজমিতে ফেলে ফসলের ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। এছাড়া কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার মতো বিলুপ্তপ্রায় দ্বীপ ও উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। ৪. আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত ডেটাবেজ: অভিন্ন নদীর পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কৌশলগত আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে নদী ব্যবস্থাপনাকে বিজ্ঞানসম্মত করতে গৃহীত ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার জিআইএস (GIS) ভিত্তিক মানচিত্র ও ডেটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কার্যাবলীতে ধীরগতি ও দুর্নীতির কারণে যাতে জনগণের করের টাকার অপচয় না হয়, সে বিষয়ে সরকারের কঠোর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড এবং উপকূলীয় মানুষের ভিটেমাটি রক্ষায় সরকার দ্রুত ও সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এমনটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |