প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সফল ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং দলটির তৎকালীন কোচ এরিক টেন হাগের মধ্যকার তিক্ত সম্পর্কের কথা ফুটবলবিশ্বের কারোরই অজানা নয়। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তাদের সেই হাই-ভোল্টেজ দ্বন্দ্বের অবসান অনেক আগেই ঘটলেও, এবার সেই বিরোধের নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর নানা ঘটনা ও কারণ নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ইউনাইটেডের এই ডাচ সাবেক কোচ।
যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে রোনালদোর অনুশীলন, মাঠে তার পরিশ্রমের ঘাটতি এবং কেন তাকে নিয়মিত একাদশের বাইরে রাখা হয়েছিল—তার বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এরিক টেন হাগ।
সাক্ষাৎকারে টেন হাগ দাবি করেন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দ্বিতীয় অধ্যায়ে ক্লাব এবং কোচ হিসেবে তিনি যেভাবে পর্তুগিজ তারকার কাছ থেকে সর্বোচ্চ পরিশ্রম ও নিবেদন আশা করেছিলেন, বাস্তবে তার দেখা মেলেনি। দলের আধুনিক ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা ও কৌশল অনুযায়ী মাঠে খেলার জন্য যে ধরনের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি বা পরিশ্রমের প্রয়োজন ছিল, রোনালদো যথাযথভাবে তা নিতেন না বলে অভিযোগ করেন সাবেক এই কোচ।
টেন হাগ জানান, ইউনাইটেডের ডাগআউটে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে পর্তুগালে গিয়ে রোনালদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সে সময় তিনি নিজের সুদূরপ্রসারী কৌশল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে রোনালদোকে বুঝিয়েও দিয়েছিলেন।
রোনালদোর ফুটবলীয় কিংবদন্তি সত্তার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা থাকার কথা স্বীকার করে টেন হাগ বলেন:
“রোনালদো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও গ্রেট খেলোয়াড়। কিন্তু কোচ হিসেবে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাকে আবেগ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দলের প্রয়োজনে যে খেলোয়াড়দের আমার বেশি উপযুক্ত মনে হয়েছে, আমি তাদেরই একাদশে সুযোগ দিয়েছি।”
২০০৯ সালে রেকর্ড ট্রান্সফারে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার দীর্ঘ ১২ বছর পর ২০২১ সালে ফের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন রোনালদো। প্রথম দফায় ইউনাইটেডের জার্সিতে ১৯৬টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে ৮৪ গোল করলেও, দ্বিতীয় মেয়াদে সেই অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি।
রোনালদোর মাঠের পারফরম্যান্স এবং তার দৌড়ানোর মানসিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে টেন হাগ বলেন, এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার রোনালদোর সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলেছেন। কোচের মতে, সতীর্থ খেলোয়াড়েরা যখন গোল করার মতো চমৎকার অবস্থানে বল পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিজের সর্বস্ব দিয়ে পরিশ্রম করেন, তখন একজন স্ট্রাইকার হিসেবে গোল করার জায়গায় পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় দৌড় ও মুভমেন্টের দরকার হয়। সেই প্রয়োজনীয় দৌড়ের ঘাটতি থাকলে সেই সুযোগ কাজে লাগানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
টেন হাগ আরও স্পষ্ট করেন যে, রোনালদোর ওপর অতিরিক্ত প্রেসিং বা চাপ সৃষ্টি করাই একমাত্র সমস্যা ছিল না। বরং বল পায়ে থাকুক কিংবা না থাকুক—উভয় পরিস্থিতিতেই তার মধ্যে ম্যাচ চলাকালীন প্রয়োজনীয় মুভমেন্টের অভাব ছিল। এর পেছনে শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির ঘাটতিকেই দায়ী করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ২০২২ সালের শেষ দিকে বিখ্যাত সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক বিস্ফোরক ও আলোচিত সাক্ষাৎকারে রোনালদোও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাব এবং কোচ এরিক টেন হাগের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ক্লাব তার সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে বলে সে সময় গুরুতর অভিযোগ তোলেন সিআরসেভেন। ওই ঘটনার পরই দুই পক্ষের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে।
অবশেষে ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এরপর কাতার বিশ্বকাপ মাতিয়ে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ইতিহাসের পাতা উল্টে সৌদি আরবের শীর্ষ ক্লাব আল নাসরে পাড়ি জমান এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
টেন হাগ ও রোনালদোর এই নতুন ও খোলামেলা বক্তব্যে এটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তাদের মধ্যকার এই সম্পর্কের অবনতি কেবল মাঠে একাদশে সুযোগ পাওয়া বা না পাওয়ার মতো সাধারণ বিষয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দল পরিচালনার কৌশল, অনুশীলনে নিবেদন এবং পারস্পরিক ফুটবলীয় দর্শনের আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারণেই সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছিল।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |