প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের লে. জেনারেল এ.এ.কে. নিয়াজীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। সদ্য স্বাধীন দেশটির দায়িত্ব নেন ভারতীয় সেনাপতি লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
তারপর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শেখ মুজিব পাকিস্তান থেকে লন্ডন যান, সেখান থেকে দিল্লি হয়ে ঢাকায় ফেরেন। দিল্লিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতীয় বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তখন দিল্লির জনসভায় শোনা যায়—“বাংলাদেশ জিন্দাবাদ”, “শেখ মুজিব জিন্দাবাদ” ও “জয় বাংলা” স্লোগান।
৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো তাঁকে বিদায় জানান। তাঁর সঙ্গী ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
বিতর্কের একটি বড় জায়গা হলো—শেখ মুজিব ১৯৭২ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের নতুন পাসপোর্ট নেন। অথচ তিনি তাত্ত্বিকভাবে তখনই ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। গবেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন—তিনি কেন জাতিসংঘের ট্রাভেল ডকুমেন্ট ব্যবহার না করে পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করলেন?
সমালোচকদের দাবি: মুজিব তখনও পাকিস্তান কনফেডারেশনের স্বপ্ন দেখছিলেন।
প্রমাণ: ভুট্টোর সঙ্গে বৈঠকে মুজিব বলেছিলেন—“It will be a confederation. Leave it to me. We will live together and we will rule this country.” (Stanley Wolpert, Zulfi Bhutto of Pakistan)
এমনকি দেশে ফেরার পর তাঁর নাগরিকত্ব বিষয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। ১৯৭২ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, যারা অন্য রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দেখায়, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারেন না। সমালোচকরা দাবি করেন—মুজিব পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করায় তাঁকে নতুন করে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে হতো।
১০ জানুয়ারি শেখ মুজিব রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেও পরদিন ১১ জানুয়ারি একটি অস্থায়ী শাসনতান্ত্রিক আদেশ জারি করে সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করেন। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারকে রূপান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকারে এবং তাজউদ্দীন আহমদকে সরিয়ে নিজে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
সমালোচকরা বলছেন—এটি গণপরিষদের অনুমোদন ছাড়াই, কেবল কলমের এক খোঁচায় সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন, যা আইনি দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ।
মঈদুল হাসান লিখেছেন—“মূল রাজনৈতিক প্রশ্ন ছিল সরকারের নেতৃত্ব পুনর্নির্ধারণ। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় মুজিব প্রধানমন্ত্রী হবেন।” (মূলধারা ’৭১)
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরে মুজিব প্রথমে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ইঙ্গিত দেন। পরবর্তীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাষণে বলেন—“আমাদের মধ্যে আর কোনো সম্পর্ক সম্ভব নয়, আপনারা সুখে থাকুন।”
অর্থাৎ, স্বাধীনতার পরও তাঁর মনে পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের চিন্তা ছিল, কিন্তু বাস্তবতার কাছে তিনি তা ছেড়ে দেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, মুজিবের দেশে ফেরার দিনটি বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক। তবে একইসঙ্গে এটি নানা প্রশ্ন ও বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।
পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার, রাষ্ট্রপতি থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রক্রিয়া, এবং কনফেডারেশন প্রসঙ্গ—সবই আজও গবেষকদের আলোচনার বিষয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁর সিদ্ধান্তগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও বাস্তবতা হলো—৭২ সালের জনমনে মুজিবই ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতীকী নেতা।
Stanley Wolpert, Zulfi Bhutto of Pakistan
Anthony Mascarenhas, Bangladesh: A Legacy of Blood
মঈদুল হাসান, মূলধারা ’৭১; তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতা
জাতীয় দৈনিক যুগান্তর, সমকাল আর্কাইভস
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |