| বঙ্গাব্দ

কন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে পবিত্র কুরআন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-10-2026 ইং
  • 5089 বার পঠিত
কন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে পবিত্র কুরআন
ছবির ক্যাপশন: কন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে

কন্যাসন্তান অবহেলা নয়, মহান আল্লাহর নেয়ামত ও সুসংবাদ: জেনে নিন ইসলামি বিধান

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

কন্যাসন্তানের জন্মকে কোনো ধরনের অপমান বা বোজা মনে না করে পরম সৌভাগ্য ও মহান আল্লাহর ‘সুসংবাদ’ হিসেবে গণ্য করেছে পবিত্র কুরআন। মেয়েদের প্রতি সামাজিক অবহেলা, উত্তরাধিকার বা পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের মতামত উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে ইসলাম দিয়েছে সুস্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা।

সন্তান আল্লাহর দান: মাকে দোষারোপ করা অন্যায়

সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে—তা সম্পূর্ণ মহান আল্লাহর ঐশ্বরিক ইচ্ছাধীন। পবিত্র কুরআনের সুরা আশ-শূরা (আয়াত: ৪৯-৫০)-এ আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দেন, কাউকে উভয়ই দেন, আবার কাউকে নিঃসন্তান রাখেন। সুতরাং, কন্যাসন্তানের জন্মের জন্য কোনো মাকে দোষারোপ করা বা খাটো করে দেখা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে চরম অন্যায় ও অজ্ঞতা।

ইসলামপূর্ব জাহেলিয়াতের যুগে কন্যাসন্তানের জন্মকে চরম লজ্জার বিষয় মনে করে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত সমাহিত করার মতো কুপ্রথা প্রচলিত ছিল। পবিত্র কুরআনে এই হীন মানসিকতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে:

সুরা আন-নাহল (আয়াত: ৫৮-৫৯):

$وَإِذَا\ بُشِّرَ\ أَحَدُهُم\ بِٱلْأُنثَىٰ\ ظَلَّ\ وَجْهُهُۥ\ مُسْوَدًّۭا\ وَهُوَ\ كَظِيمٌۭ$

অর্থ: “আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে প্রচণ্ড মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে।”

এছাড়া সুরা আত-তাকভির (আয়াত: ৮-৯)-এ কিয়ামতের দিন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাশিশুকে কেন হত্যা করা হয়েছিল—সে বিষয়ে কঠোর হিসাব চাওয়া হবে বলে হুশিয়ার করা হয়েছে।

কন্যাসন্তান লালন-পালনের অসামান্য মর্যাদা

কন্যাসন্তানকে স্নেহ ও ভালোবাসার সাথে সঠিক শিক্ষায় লালন-পালন করার জন্য হাদিসে পরম জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিম (হাদিস: ২৬৩১)-এ রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দুটি কন্যাসন্তানকে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত সঠিক শিক্ষা ও আদবে লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন সে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অতি সন্নিকটে অবস্থান করবে। তাই মেয়ের অন্ন, বস্ত্র ও চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা অভিভাবকের মৌলিক দায়িত্ব।

সম্পত্তি ও বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর সুস্পষ্ট অধিকার

১. উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হারাম:

আমাদের সমাজে অনেক পরিবার মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার অজুহাতে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে থাকে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্ট কবিরা গুনাহ। সুরা আন-নিসা (আয়াত: ৭)-এ বলা হয়েছে:

$لِّلرِّجَالِ\ نَصِيبٌ\ مِّمَّا\ تَرَكَ\ الْوَالِدَانِ\ وَالأَقْرَبُونَ\ وَلِلنِّسَاءِ\ نَصِيبٌ\ مِّمَّا\ تَرَكَ\ الْوَالِدَانِ\ وَالأَقْرَبُونَ\ مِمَّا\ قَلَّ\ مِنْهُ\ أَوْ\ كَثُرَ\ نَصِيبًا\ مَّفْرُوضًا$

অর্থ: “পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ রয়েছে—তা অল্প হোক কিংবা বেশি, এক নির্ধারিত অংশ।”

২. বিযেতে সম্মতির বাধ্যবাধকতা:

বিয়েতে নারীর ব্যক্তিগত মতামতের গুরুত্ব অপরিসীম। সুনান আবু দাউদ (হাদিস: ২০৯৬) অনুযায়ী, অনিচ্ছায় দেওয়া বিয়ের বিরুদ্ধে নালিশ জানানোর অধিকার নারীর রয়েছে।

৩. মোহরানা নারীর নিজস্ব হক:

সুরা আন-নিসা (আয়াত: ৪)-এ আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন:

$وَاتُوا\ النِّسَاءَ\ صَدُقَاتِهِنَّ\ نِحْلَةً\ ۚ\ فَإِنْ\ طِبْنَ\ لَكُمْ\ عَنْ\ شَيْءٍ\ مِنْهُ\ نَفْسًا\ فَكُلُوهُ\ هَنِيئًا\ مَرِيئًا$

অর্থ: “আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর স্বতঃস্ফূর্তভাবে (হৃষ্টচিত্তে) প্রদান করো। অতঃপর তারা যদি নিজেদের সন্তুষ্টিতে মোহরের কিছু অংশ তোমাদের ছেড়ে দেয়, তবে তা তৃপ্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো।”

সারকথা: কুরআন ও হাদিসের স্পষ্ট শিক্ষা হলো— কন্যাসন্তান কোনো সামাজিক বোঝা নয়, বরং সে জান্নাত অর্জনের অনন্য মাধ্যম ও মহান আল্লাহর নিয়ামত। তাদের সঠিক শিক্ষা, মর্যাদা, সম্মান এবং সম্পত্তি ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা প্রতিটি সচেতন ইসলামি পরিবারের অবশ্যপালনীয় কর্তব্য।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency