প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
মানুষ মাত্রই মৃত্যুকে ভয় পায়। তবে একটু গভীরভাবে চিন্তা ও অনুধাবন করলে দেখা যায়—শ্বাস-প্রশ্বাসের বাহ্যিক সমাপ্তি কিংবা জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়াটাই মানবজীবনের সবচেয়ে বড় ভীতি বা ট্র্যাজেডি হতে পারে না। কারণ, কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত—মৃত্যু প্রতিটি প্রাণীর জন্যই এক অবধারিত ও স্বাভাবিক শাশ্বত সত্য। মানুষের জন্য মূল চিন্তার বিষয় হলো—সে কীভাবে এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করছে এবং তার মহান সৃষ্টিকর্তার সামনে কীভাবে উপস্থিত হচ্ছে। মৃত্যুর ক্ষণটি সুন্দর ও ইমানদীপ্ত না হলে, তার পরবর্তী অনন্ত আখেরাতের যাত্রা নেমে আসতে পারে চরম বিপর্যয় ও অন্ধকার।
ইসলামি জীবনদর্শনের আলোকে, বাহ্যিক মৃত্যু কোনো পরাজয় নয়; বরং আসল ভীতি লুকিয়ে থাকে মানুষের আমল, নিয়ত এবং তার রবের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। যে বিষয়গুলো মৃত্যুকে প্রকৃত অর্থেই ভয়ংকর ও বিপর্যয়কর করে তোলে:
সৎ আমল ছাড়া মৃত্যুবরণ করা: খালি হাতে রবের দরবারে উপস্থিত হওয়া একজন বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় শূন্যতা। কবর ও হাশরের কঠিন ঘাটে মানুষের ভালো আমলই হয় তার একমাত্র আলোর সঙ্গী।
তওবা না করে বিদায় নেওয়া: জীবন থাকতে পাপের অনুশোচনায় আল্লাহর কাছে তওবা না করে হঠাৎ বিদায় নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তওবা ছাড়া গুনাহের বোঝা নিয়ে বিচারদিবসে দাঁড়ানো কঠিন শাস্তির কারণ হতে পারে।
অন্তরকে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত না রাখা: হৃদয়ে ইমানের আলো না রেখে, রব্বকে ভুলে দুনিয়ার মোহে ডুবে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা মহা ক্ষতির শামিল।
শরিয়তের বিধান না মেনে জীবন চালানো: পুরো জীবন নিজের খেয়ালখুশি ও মনগড়া পথে চালিয়ে শেষ মুহূর্তে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া চরম আশঙ্কাজনক।
আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে বিদায় নেওয়া: একজন মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কিছু হতে পারে না যে, তার পরম প্রতিপালক তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হলো।
ইসলাম আমাদের মৃত্যুর আগের সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর অবিচল থাকার ব্যাপারে কঠোর তাগিদ দিয়েছে:
১. ইমানের ওপর মৃত্যুর গুরুত্ব:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
“হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত তেমনিভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে কোনো অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো না।”
(সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০২)
২. তওবার চরম প্রয়োজনীয়তা:
মৃত্যুর দূত আসার আগেই তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে:
“হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।”
(সুরা আন-নূর, আয়াত: ৩১)
৩. শেষ পরিণতির ওপর আমলের মূল্যায়ন:
মানুষের জীবনের শেষ মুহূর্তটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:
“নিশ্চয়ই মানুষের যাবতীয় আমলের মূল্যায়ন নির্ভর করে তার শেষ পরিণতির (বা শেষ আমলের) ওপর।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬০৭)
আমাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া নয়, বরং অনন্ত আখেরাত। তাই মৃত্যুর বাহ্যিক রূপ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে, মুমিনের প্রতিটি মুহূর্তের চিন্তা হওয়া উচিত পরকালের পাথেয় নিয়ে। প্রতিদিনের চালচলনে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা এবং প্রতিনিয়ত রবের ক্ষমা ও সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |