প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট ডাটা (এমবি/জিবি) ও টকটাইম (মিনিট) দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো বস্তু না হওয়ায় এবং সরাসরি নিজের সম্পূর্ণ মালিকানায় না থাকা ডাটা কম দামে অন্যের কাছ থেকে কিনে বেশি দামে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা ইসলামি শরিয়তসম্মত কি না—তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে।
এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ফতোয়া ও মতামত দিয়েছেন ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস মুফতি জাওয়াদ তাহের।
ইসলামি ফিকহের নীতি অনুযায়ী, এই লেনদেনটি এবং এভাবে উপার্জিত অর্থ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ জায়েজ (বৈধ)। অর্জিত এই অর্থকে ব্যবসায়িক মুনাফা কিংবা সেবা প্রদানের সার্ভিস চার্জ—উভয়ভাবেই অভিহিত করা যেতে পারে।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«لَا تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ»
অর্থ: “যা তোমার কাছে নেই (মালিকানায় নেই), তা বিক্রি করো না।” (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১২৩২)
মুফতি জাওয়াদ তাহের বিশ্লেষণ করে জানান, হাদিসের এই নিষেধাজ্ঞা মূলত দৃশ্যমান বস্তুগত পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু ইন্টারনেট ডাটা (এমবি/জিবি) বা টকটাইম দৃশ্যমান পণ্যের মতো নয়; এগুলো মূলত ডিজিটাল সেবা বা উপযোগ (Utility/Service)।
ইসলামী ফিকহে সেবা সরবরাহের চুক্তি বা ‘ইজারা’ (Lease/Service Contract) শরিয়তসম্মত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সম্পূর্ণ বৈধ। যখন কেউ গ্রাহকের সাথে নির্দিষ্ট মূল্যে (যেমন: ৮ টাকায় ৫ জিবি) সেবা দেওয়ার চুক্তি করে এবং পরে অন্য উৎস থেকে কম খরচে (যেমন: ৫ টাকায়) সার্ভিস এনে গ্রাহকের সিমে অ্যাক্টিভ করে দেয়, তখন বাকি ৩ টাকা তার বৈধ ব্যবসায়িক মুনাফা বা সেবা মূল্য হিসেবে গণ্য হয়।
অনেকে বিষয়টিকে দালালি বা কমিশনভিত্তিক কাজ মনে করতে পারেন। তবে দুই ক্ষেত্রে শরয়ি বিধান ভিন্ন:
প্রতিনিধি বা এজেন্টের ক্ষেত্রে: গ্রাহকের প্রতিনিধি হয়ে বাজার থেকে ডাটা কিনে দিলে তার কমিশন বা পারিশ্রমিক চুক্তির সময় স্পষ্ট ও নির্ধারিত থাকা বাধ্যতামূলক।
সেবা সরবরাহ চুক্তির ক্ষেত্রে: নিজ দায়িত্বে নির্দিষ্ট মূল্যে ডাটা সরবরাহের চুক্তি করলে তা সরাসরি সেবা দেওয়ার চুক্তি। এক্ষেত্রে অন্যের সাহায্য নিয়ে কম খরচে কাজ শেষ করে নির্ধারিত অর্থ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ বৈধ।
অনলাইন বা অফলাইনে এই ব্যবসা ও উপার্জন হালাল হতে হলে ৩টি শর্ত মানা আবশ্যক:
১. সেবা সরবরাহের পূর্ণ দায়ভার নেওয়া: চুক্তি অনুযায়ী ডাটা সক্রিয় করে দেওয়ার সার্বিক দায়িত্ব বিক্রেতার ওপর থাকবে। কারিগরি বা অন্য কোনো কারণে ডাটা দিতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের সমুদয় টাকা ফেরত দিতে হবে।
২. স্বচ্ছতা ও শর্ত স্পষ্ট করা: ডাটার পরিমাণ, মেয়াদ এবং ব্যবহারের শর্তাবলি কোনো ধরনের গোপনীয়তা বা প্রতারণা ছাড়া গ্রাহককে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
৩. বৈধ মাধ্যম ব্যবহার করা: হ্যাকিং, জালিয়াতি, অননুমোদিত অফার, কার্ডিং বা টেলিকম কোম্পানির নিয়মবহির্ভূত অবৈধ পন্থায় ডাটা সংগ্রহ ও সরবরাহ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
ইসলামি আইনের বিখ্যাত মৌলিক গ্রন্থ ‘মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ’-এর ৫৭২ ও ৫৭৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে:
ধারা ৫৭২: চুক্তি শর্তহীন হলে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্য কাউকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করিয়ে নিতে পারেন।
ধারা ৫৭৩: কোনো দর্জিকে যদি শর্তহীনভাবে পোশাক সেলাই করতে বলা হয়, তবে তিনি নিজ হাতে না কেটে অন্য কোনো দর্জিকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিলেও চুক্তির পূর্ণ পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকারী হবেন।
সারসংক্ষেপ: নির্দিষ্ট মূল্যে ডাটা সরবরাহের চুক্তি করে নিজ দায়িত্বে কোনো বৈধ উৎস থেকে তা সরবরাহ করা এবং লাভের অর্থ গ্রহণ করা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণ হালাল ও বৈধ।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |