প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণ নিয়ে হাজির হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (১০ মে, ২০২৬) রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৫০ জন পৌর মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, জাতীয় নির্বাচনে প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় না পেলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা এককভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন:
১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী নির্বাচন দীর্ঘ প্রক্রিয়া হওয়ায় এনসিপি স্বতন্ত্রভাবে এগোচ্ছে।
ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা অন্য দল থেকে হলেও এনসিপির মনোনয়নের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মাঠপর্যায়ে পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলে প্রার্থীদের তালিকায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।
দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুস্পষ্ট রূপরেখা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
ঘোষিত ১০০ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় হাবিবুর রহমান হাবিব, বোদায় শিশির আসাদ, দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে ইমরান চৌধুরী নিশাত এবং নীলফামারী সদরে ড. কামরুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম বিভাগ: কক্সবাজার সদরে শফিকুল ইসলাম শফিক, উখিয়ায় মোহাম্মদ হুসাইন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আমিনুল হক।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিবর্তন ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এক দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ আমল (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে ব্রিটিশরা 'বেঙ্গল লোকাল সেলফ-গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট'-এর মাধ্যমে স্থানীয় শাসনের ভিত গড়েছিল। তবে তা ছিল মূলত ঔপনিবেশিক স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার।
স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, তার একটি বড় অংশ ছিল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় মানুষের হাতে শাসনভার অর্পণ। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার উপজেলা ও পৌর ব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে।
গণতন্ত্র ও ২০২৪-এর বিপ্লব: ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের পর স্থানীয় নির্বাচনে নির্দলীয় ও সদলীয় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে, এনসিপি সেই আন্দোলনেরই একটি রাজনৈতিক ফসল।
২০২৬-এর বর্তমান সংস্কার: ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশ এখন এক গভীর রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এনসিপির মতো নতুন রাজনৈতিক শক্তির স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, ১৯০০ সালের পরাধীন আমলের অনুগত শাসন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে ২০২৬ সালের স্বাধীন বাংলাদেশ এখন তৃণমূল পর্যায়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূল মানুষের ভোটাধিকার সবসময়ই রাজনৈতিক পালাবদলের মূল চাবিকাঠি ছিল। এনসিপি’র এই প্রার্থী ঘোষণা মূলত পুরাতন রাজনৈতিক ঘরানার বাইরে এক নতুন নেতৃত্ব তৈরির প্রচেষ্টা। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতার এক বড় পরীক্ষা।
সূত্র: ১. জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সংবাদ সম্মেলন (১০ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও রাজনৈতিক বিবর্তন (১৯৭১-২০২৬)। ৩. আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলমের বক্তব্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |