প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
দীর্ঘ তিন বছরের দীর্ঘ বিরতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনায় বসছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও ভারত। আজ ও আগামীকাল নয়াদিল্লিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৬তম বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেড (জেডব্লিউজি)-এর দুই দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আমদানি-রপ্তানির নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক সচল রাখার ক্ষেত্রে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। এর আগে ১৫তম জেডব্লিউজি বৈঠক ২০২৩ সালের ২৬-২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এবারের বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু জোরালোভাবে স্থান পাচ্ছে:
পাটপণ্যে নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক: এবারের বৈঠকের অন্যতম প্রধান ও স্পর্শকাতর ইস্যু হলো বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর ভারতের আরোপ করা নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক। গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারত সরকার বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি করা জুট ইয়ার্ন/টুইন, হেসিয়ান ফ্যাব্রিক এবং জুট স্যাকিং ব্যাগের ওপর বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হবে।
সুতা আমদানি ও অন্যান্য বিধিনিষেধ: এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় সুতা আমদানির বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও শর্ত নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলা: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০.৯৬ বিলিয়ন ডলারে। পক্ষান্তরে একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল মাত্র ১.৭৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ব্যবধান বা ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯.২১ বিলিয়ন ডলারে। এই প্রকট বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ভারতের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সম্প্রসারণ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা (Tariff and Non-Tariff Barriers) দূর করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন আরও সহজ করার ওপর তীব্র জোর দেবে।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩৩৫.২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৬৭ শতাংশ বেশি। এই ইতিবাচক ধারাকে আরও বেগবান করতেই মূলত জোর দিচ্ছে ঢাকা।
বাণিজ্যের পথ সুগম করতে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থলবন্দরের অবকাঠামো ও লজিস্টিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের বৈঠকেও বন্দর ও বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছিল।
দীর্ঘ তিন বছর পর জেডব্লিউজি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা সেপা) নিয়ে থমকে থাকা আলোচনা আবারও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের বৈঠকে সেপা চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক সম্পর্কের নানা চড়াই-উতরাই বা শীতলতা থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পরস্পরনির্ভরশীল। বাংলাদেশ তার শিল্পের কাঁচামাল, তুলা, সুতা ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য আমদানির জন্য ভারতের ওপর বড় অংশে নির্ভরশীল। অন্যদিকে, ভারতের জন্যও বাংলাদেশ একটি অন্যতম বৃহৎ ও লাভজনক রপ্তানি বাজার। তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার বাইরে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই অত্যন্ত জরুরি।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |