বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে। দলটি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তাঁর লক্ষ্য ছিল একটি নতুন রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ প্রতিষ্ঠা করা, যা ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভূখণ্ডের ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়ের ধারণা তুলে ধরেছিল।
১৯৭৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এই সময় পার্লামেন্টারি রাজনীতি চর্চা শুরু হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন, যা দলের জন্য এক গভীর ধাক্কা ছিল।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন হন। এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি ‘সাতদলীয় জোট’ গঠন করে এবং ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদের পতনের পথ প্রশস্ত করে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন। বিএনপি সরকার তখন রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটায়। অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন বিএনপি জিতে সরকার গঠন করে। তবে জনগণের চাপের মুখে তা বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে এবং বিএনপি বিরোধীদলে যায়।
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসে। এই মেয়াদে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোন খাতে কিছু অগ্রগতি হলেও, দুর্নীতি ও জঙ্গি উত্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়।
২০০৬ সালের নির্বাচনকালীন সংকট ও সহিংসতা থেকে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এরপর ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এই সময় খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা উভয়েই গ্রেপ্তার হন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ২৯টি আসনে জয়লাভ করে। এ সময় দল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে, ফলে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। বিএনপি সংসদের বাইরে থেকে আন্দোলন চালায়, কিন্তু কার্যকর প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে অংশ নেয়, কিন্তু মাত্র ৭টি আসনে জয়ী হয়। নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যজনিত কারণে তিনি রাজনীতি থেকে অনেকটাই সরে আসেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালভাবে নেতৃত্ব দিতে থাকেন।
২০২৪ সালের জুন থেকে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক গতিপথ পাল্টে দেয়। সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভের মুখে সহিংস দমন শুরু হয়, যা ইতিহাসে "জুলাই গণহত্যা" নামে পরিচিত। বিভিন্ন সূত্র মতে, এই দমনপীড়নে প্রায় ১৪০০ জন নিহত হন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ইন্টারিম সরকার গঠিত হয়। বিএনপি এই সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে এবং রাজনৈতিক সংস্কারে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে।
২০২৫ সালে বিএনপি বিভিন্ন পর্যায়ে পুনর্গঠনের কাজ করছে। জুলাই মাসে দলটি “জুলাই বিপ্লব” স্মরণে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং “জুলাই ডিক্লারেশন” সংবিধানসম্মতভাবে বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার হয়। তারেক রহমান দেশে ফেরার সম্ভাবনার আভাস দেন।
আদর্শ: বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র
সংগঠন: ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, সেচ্ছাসেবক দল
রাজনৈতিক অবস্থান: মধ্য-ডানপন্থী
চ্যালেঞ্জ:
নেতৃত্ব সংকট
নির্বাচনে পরপর ব্যর্থতা
জোট রাজনীতির অস্পষ্টতা
সম্ভাবনা:
তরুণ সমাজের সমর্থন
রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবন
নতুন ইন্টারিম প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একসময় দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হলেও এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ১৯৭৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের রাজনৈতিক ওঠাপড়া, আন্দোলন, পরাজয় এবং পুনর্গঠনের প্রয়াস এই দলের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ ও জটিল করেছে। ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে—নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ, সঠিক নেতৃত্ব এবং আধুনিক রাজনৈতিক কৌশলের ওপর।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |