| বঙ্গাব্দ

ক্যানসারের বিরুদ্ধে আশার আলো দেখাচ্ছে যে ভিটামিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-10-2026 ইং
  • 5748 বার পঠিত
ক্যানসারের বিরুদ্ধে আশার আলো দেখাচ্ছে যে ভিটামিন
ছবির ক্যাপশন: ক্যানসারের বিরুদ্ধে আশার আলো দেখাচ্ছে

মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্যানসার গ্লিওব্লাস্টোমা চিকিৎসায় ভিটামিন বি৩ এর নতুন সম্ভাবনা

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এবং একটি সাধারণ পুষ্টি উপাদান হলেও, এই সাধারণ ভিটামিনটিই এবার মস্তিষ্কের অন্যতম ভয়ংকর ও আক্রমণাত্মক ক্যানসার ‘গ্লিওব্লাস্টোমা’র চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির গবেষকদের পরিচালিত সাম্প্রতিক প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রচলিত ক্যানসার চিকিৎসার পাশাপাশি উচ্চমাত্রার ভিটামিন বি৩ যুক্ত করলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসারের অগ্রগতি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

ছোট পরিসরের একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, এই চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের পর ছয় মাস পর্যন্ত ৮২ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসার নতুন করে বাড়েনি বা ছড়িয়ে পড়েনি। তবে গবেষকেরা বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে প্রয়োগের আগে বড় পরিসরে গবেষণা ও নিরাপত্তা যাচাই করা জরুরি।

যে কারণে গ্লিওব্লাস্টোমার চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, গ্লিওব্লাস্টোমা হলো প্রাপ্তবয়স্কদের মস্তিষ্কের ক্যানসারগুলোর মধ্যে অন্যতম আক্রমণাত্মক রূপ। সাধারণত অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপির সম্মিলিত প্রক্রিয়ায় এর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার যতদূর সম্ভব অপসারণ করা হলেও, ক্যানসারের সূক্ষ্ম কোষগুলো প্রায়ই আশপাশের সুস্থ মস্তিষ্কের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ক্যানসার পুরোপুরি নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায় এবং চিকিৎসার পরও তা দ্রুত ফিরে আসার প্রবণতা দেখায়। দীর্ঘ সময় ধরে এই ক্যানসারের রোগীদের বেঁচে থাকার হারের ক্ষেত্রেও আশানুরূপ কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি।

ভিটামিন বি৩ যেভাবে কাজ করে

গবেষকদের ধারণা, গ্লিওব্লাস্টোমা কেবল মস্তিষ্কে টিউমারই তৈরি করে না, বরং শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা মানবদেহের যেসব প্রতিরোধী কোষের, সেগুলোও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছেন যে, উচ্চমাত্রার নিয়াসিন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব দুর্বল হয়ে পড়া রোগপ্রতিরোধী কোষকে পুনরায় সক্রিয় করা যায় কি না। এর আগে গবেষক উই ইয়ংয়ের নেতৃত্বে ইঁদুরের ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় নিয়াসিন ব্যবহারের ফলে প্রাণীদের বেঁচে থাকার সময় বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে মানুষের ওপর সম্মিলিত ফেজ-১ ও ফেজ-২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হয়।

২৪ রোগীর প্রাথমিক ফলাফলে আশার আলো

বর্তমান গবেষণায় প্রচলিত কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির পাশাপাশি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট মাত্রায় নিয়াসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে। গবেষণার মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো—কোন মাত্রাটি রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ, তা নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে এটি যাচাই করা হচ্ছে যে, নিয়াসিন যুক্ত করার ফলে ক্যানসারের অগ্রগতি ঠেকিয়ে রাখার সময় বা ‘প্রগ্রেশন-ফ্রি সারভাইভাল’ বৃদ্ধি পায় কি না।

গবেষণার শুরুতে বিজ্ঞানীরা একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড ঠিক করেছিলেন। পুরোনো গবেষণার ফলাফলের তুলনায় ছয় মাসে ক্যানসারের অগ্রগতি ঠেকিয়ে রাখার হার যদি অন্তত ২০ শতাংশ উন্নত না হয়, তবে ট্রায়াল বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রথম ২৪ জন রোগীর ওপর চালানো ট্রায়ালের ফল সেই পূর্বনির্ধারিত মানদণ্ড ছাড়িয়ে গেছে। ছয় মাস পর দেখা গেছে যে, ৮২ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসারের কোনো অগ্রগতি হয়নি, যা গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী আগের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি।

সাধারণ ভিটামিন হলেও নিজে থেকে সেবনের ঝুঁকি

গবেষকেরা অত্যন্ত জোরালোভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন আমাদের পরিচিত ও সহজলভ্য হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা নিজ দায়িত্বে উচ্চমাত্রায় এটি সেবন করা মোটেও নিরাপদ নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় নিয়াসিন গ্রহণ করলে শরীরে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব এবং বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সম্পূর্ণ চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং কঠোর প্রটোকল মেনে নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় এই পুষ্টি উপাদান দেওয়া হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে গবেষণার এই ফল দেখে ঘরোয়াভাবে বা নিজে থেকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন বি৩ সেবন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এই ট্রায়ালে মোট ৪৮ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে কিংবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এই গবেষণার চূড়ান্ত ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency