প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে লজ্জার রেকর্ড গড়েছে ক্রোয়েশিয়া। গত শনিবার রিয়েকায় অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে থ্রি লায়ন্সদের কাছে ৭-০ গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় ক্রোয়াটরা। ১৯৯১ সালে স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্রামে থাকা অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ এই ম্যাচে একাদশে ফিরলেও দলের এমন বিপর্যয় এড়াতে পারেননি। ম্যাচ শেষে দলের নিষ্প্রাণ পারফরম্যান্স নিয়ে চরম ক্ষোভ ও গভীর লজ্জার কথা প্রকাশ করেছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
ম্যাচজুড়ে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ এলোমেলো ও দিশেহারা ছিল। ইংলিশদের আক্রমণ সামলাতে পুরো ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। ইংল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে জোড়া গোল আদায় করেন হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকা। এছাড়া একটি করে গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন অ্যান্থনি গর্ডন, জুড বেলিংহাম ও মরগান রজার্স। মাঠের ফুটবলে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো প্রতিরোধ বা লড়াকু মানসিকতা দেখা যায়নি।
ক্রোয়েশিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইউতার্নিই লিস্ট’-এ প্রকাশিত বক্তব্যে লুকা মদ্রিচ দলের এমন পারফরম্যান্সকে ‘বিপর্যয়ের রাত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০০৬ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আর কখনো হননি বলে জানান তিনি।
হতাশা ব্যক্ত করে মদ্রিচ বলেন, “এমন পারফরম্যান্সের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। মাঠে কোনো লড়াই ছিল না, কোনো ফাউল ছিল না, কোনো আগ্রাসন ছিল না, ছিল না কোনো একতাও। আমি ২০ বছর ধরে এখানে আছি, কিন্তু কোনো ম্যাচের পর এই প্রথম আমি গভীর লজ্জা অনুভব করছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আপনি হারতেই পারেন, কারণ এই মুহূর্তে তারা আমাদের চেয়ে ভালো দল। কিন্তু এভাবে আত্মসমর্পণ করা এবং বছরের পর বছর ধরে আমাদের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত সুনাম ধূলিসাৎ করা মেনে নেওয়া যায় না। আমি ভীষণ লজ্জিত।”
দলের মাঠে কৌশলগত ও শারীরিক দুর্বলতার কথা তুলে ধরে মদ্রিচ বলেন, পুরো ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলারদের মনে হচ্ছিল যেন তারা প্রতিপক্ষের ছায়ার পেছনে ছুটছেন। এমনকী মাঠের লড়াইয়ে দলের একতার অভাব তাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে। তবে এই দুঃসময়ে একে অপরকে দোষারোপ না করে দলটিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বড় এই হারের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার বেশি সময় পাচ্ছে না ক্রোয়েশিয়া। দলটির সামনে এবার অপেক্ষ করছে আরও এক কঠিন পরীক্ষা—শক্তিশালী স্পেন। এর আগে স্পেনের বিপক্ষে বড় হারের তেতো স্মৃতি এখনো টাটকা থাকায় মদ্রিচ চান দলের মানসিকতা, জেদ, গর্ব ও খেলার তীব্রতা রাতারাতি বদলে যাক। তাঁর মতে, ইংল্যান্ড ম্যাচের এই বিবর্ণ রূপ আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাহিদার ধারেকাছেও নেই। আসন্ন ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া তাদের আসল রূপ ও লড়াকু চরিত্র ফিরে পাবে বলেই আশাবাদী ক্রোয়াট দলপতি।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |