নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাময়িক আর্থিক সংকটে গ্রাহকদের জরুরি বিল ও ফি পরিশোধের সুযোগ দিতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সুদের পরিবর্তে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে এ সুবিধা নেওয়া যাবে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর দেশের সব তফশিলি ব্যাংককে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য এ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-পেমেন্ট ক্রেডিট নিতে পারবেন। নেওয়া অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় বিল ও ফি পরিশোধ করা যাবে।
এর আওতায় ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ফি, টোল ও টিকিট, করসহ সরকারি ফি, আমানতের কিস্তি এবং বিমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করা যাবে।
তবে এই ঋণের অর্থ নগদে উত্তোলন করা যাবে না। একইভাবে গ্রাহকের কোনো ওয়ালেটে জমা কিংবা অন্য ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের সুযোগও থাকবে না।
ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী পরিশোধের সময়সীমা ৭, ১৫ ও ৩০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ঋণসীমার জন্য সর্বোচ্চ ফিও নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ফি যথাক্রমে ৩ টাকা থেকে ২০ টাকা। ১ হাজার ১ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ফি ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩ হাজার ১ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য সর্বোচ্চ ফি ২০ টাকা থেকে ৯০ টাকা। আর ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকা।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহককে ঋণের মূল অর্থ ও প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত সুদ, প্রি-পেমেন্ট বা আর্লি সেটেলমেন্ট ফি নেওয়া যাবে না।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য সীমিত হারে জরিমানা বা ফি নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
কারা এই সুবিধা পাবেন, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। অর্থাৎ সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সাময়িক নগদ সংকটে থাকা গ্রাহকদের জরুরি বিল ও ফি সময়মতো পরিশোধের সুযোগ দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়াতেও এই ব্যবস্থা ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে ই-পেমেন্ট ক্রেডিট চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে কমপক্ষে ছয় মাস পাইলটিং করতে হবে।
পাইলটিংয়ের ফলাফল মূল্যায়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে সুবিধাটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা যাবে।
সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |