| বঙ্গাব্দ

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে শতকোটি টাকার পাথর লুট: অজ্ঞাত ১-দেড় হাজার আসামির বিরুদ্ধে মামলা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-08-2025 ইং
  • 4357408 বার পঠিত
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে শতকোটি টাকার পাথর লুট: অজ্ঞাত ১-দেড় হাজার আসামির বিরুদ্ধে মামলা
ছবির ক্যাপশন: ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে শতকোটি টাকার পাথর লুট

"ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে শতকোটি টাকার পাথর লুট: অজ্ঞাত ১-দেড় হাজার আসামির বিরুদ্ধে মামলা"

প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর থেকে শতকোটি টাকার পাথর লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত ১ হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আনোয়ারুল হাবীব বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান।

ঘটনার বিবরণ

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে কিছু দুষ্কৃতকারী গেজেটভুক্ত পাথর কোয়ারি এলাকা থেকে অবৈধভাবে এবং অনুমোদন ছাড়া কোটি কোটি টাকার পাথর উত্তোলন ও লুটপাট করেছে। এ বিষয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও জড়িতদের পরিচয় তখন শনাক্ত করা যায়নি।

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি অবৈধ পাথর উত্তোলনের জন্য আলোচিত। এখানে সাদা রঙের প্রাকৃতিক পাথরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসেন, তবে একইসাথে কোয়ারি এলাকাকে ঘিরে পরিবেশ ধ্বংস ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও রয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

অতীতের অনুরূপ ঘটনা

১৯৮০ এর দশক থেকে ভোলাগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চলে অবৈধ পাথর উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালালেও প্রভাবশালী চক্রের কারণে এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
২০০৮ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের কিছু কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে পুনরায় অবৈধ খনন শুরু হয়।

আইন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো এবং স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালালেও জড়িত চক্র শনাক্ত করা কঠিন হয়েছে। বড় আকারের লুটপাটের ঘটনায় এত সংখ্যক অজ্ঞাত আসামি যুক্ত করা—বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ সুরক্ষায় অন্যতম বৃহত্তম মামলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রভাব

সরকারি হিসাবে, প্রতি বছর অবৈধ পাথর উত্তোলনের কারণে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়। এই অর্থে সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের উন্নয়ন সম্ভব হলেও তা পাচার হয়ে যাচ্ছে।


উপসংহার

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরের এই মামলার মাধ্যমে অবৈধ খনিজ লুটপাটের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে, এত সংখ্যক অজ্ঞাত আসামির সঠিক পরিচয় বের করা এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই হবে তদন্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


সূত্র:
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, কোম্পানীগঞ্জ থানা, যুগান্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর আর্কাইভ, সিলেট জেলা প্রশাসন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency