| বঙ্গাব্দ

হয় আমি থাকব, না হয় দুর্নীতির চক্র থাকবে’: স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়াদের কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-09-2026 ইং
  • 2211 বার পঠিত
হয় আমি থাকব, না হয় দুর্নীতির চক্র থাকবে’: স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়াদের কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছবির ক্যাপশন: হয় আমি থাকব, না হয় দুর্নীতির চক্র থাকবে

‘হয় আমি থাকব, না হয় দুর্নীতির চক্র থাকবে’: স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়াদের কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দালাল চক্র পুরোপুরি নির্মূল করার বিষয়ে চরম কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ঝটিকা সফর এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দেন—‘হয় সরকারি হাসপাতালে আমি থাকব, না হয় দুর্নীতির সিন্ডিকেট থাকবে।’ দেশের সাধারণ মানুষের সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, সিন্ডিকেট বা মাফিয়া চক্রকে আর বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

হাসপাতালে অনিয়ম ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতি, বিনামূল্যে সরবরাহকৃত ওষুধ বিক্রি, দালালদের দৌরাত্ম্য ও চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে।

এই পরিস্থিতি দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে শুধু বিভাগীয় প্রধান বা পরিচালকদের ওপর নির্ভর না করে মাঠে সরাসরি ঝটিকা অভিযান চালানো হবে। কর্মস্থলে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ওষুধ বা চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে কোনো জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না। অনিয়মে জড়িত প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার মূল দিকসমূহ

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • দালালমুক্ত হাসপাতাল: সরকারি হাসপাতালের সীমানা থেকে দালাল চক্র এবং অবৈধ প্রাইভেট ক্লিনিকের দালালদের অবিলম্বে উচ্ছেদের নির্দেশ।

  • ওষুধ ও সরঞ্জাম সুরক্ষা: রোগীদের জন্য সরকারি নিখরচায় বরাদ্দকৃত ওষুধ যেন কেবল রোগীরাই পান, সে বিষয়ে তদারকি জোরদার করা।

  • কঠোর উপস্থিতি ট্র্যাকিং: উপজেলা ও জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতে বায়োমেট্রিক ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

এক নজরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
মূল বক্তব্য"হয় আমি থাকব, না হয় সরকারি হাসপাতালের দুর্নীতি থাকবে"
প্রধান লক্ষ্যস্বাস্থ্য খাতকে সিন্ডিকেট ও দালালমুক্ত করে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা
আইনি ব্যবস্থাঅনিয়মে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত
তদারকি ব্যবস্থাজেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ মনিটরিং স্কোয়াডের ঝটিকা অভিযান

সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিতের অঙ্গীকার

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই নজিরবিহীন ও কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে কেবল কথার কথা না রেখে এই ঘোষণা কত দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের পুরো সাধারণ জনগণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন সাহসী মনোভাব এবং নিয়মিত তদারকি বজায় থাকলে দীর্ঘদিন ধরে জর্জরিত সরকারি স্বাস্থ্য খাত অবশেষে সুশাসনের মুখ দেখতে পারে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency