প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: কালের কণ্ঠ, ডিএমপি, শ্রম মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন (২০২5)
আজ রোববার (৩ আগস্ট) সকালে ও দুপুরে পৃথকভাবে দুজন ব্যক্তি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করেন।
তাদের আটক করে স্পেশাল ব্রাঞ্চের টেকনিক্যাল ফোর্স।
আটক ব্যক্তিরা হলেন:
মোল্লা মোসলেহ এলাহী (৫৭) – সকাল ১০টায় আটক হন এবং পরে ডিএমপির ইউনিট থেকে মুচলেকায় মুক্তি পান।
মো. জিয়াউদ্দিন শিকদার (৫৮) – দুপুর দেড়টায় আটক হন, এখনো হেফাজতে রয়েছেন।
উভয়ের কাছে বৈধ লাইসেন্স থাকলেও, তারা সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের বিধিনিষেধ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন বলে দাবি করেন।
পুলিশ বলেছে:
“তারা স্বীকার করেছে যে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র পরিবহন নিষিদ্ধ — সেটা তারা জানতেন না।”
কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশ্ন হচ্ছে:
সচেতনতা কোথায় ছিল?
এমন সংবেদনশীল এলাকায় স্ক্রিনিং ব্যর্থ হলো কীভাবে?
কোর্টে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের আগেই আটক হয়নি কেন?
এটি কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভাঙনের চিহ্ন?
একই দিনে, নাটোরে এক সরকারি অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন:
“আমাদের দেশের কমপ্লিট স্ট্রাকচার ভেঙে পড়েছে। পুলিশ-প্রশাসন কাজ করছে না। জেলা থেকে কেন্দ্র — সব কিছুই ব্যর্থ।”
এই বক্তব্য কেবল হতাশা নয় — বরং রাষ্ট্র কাঠামোর এক জীবন্ত অ্যাডমিশন অফ কলাপ্স।
| সাল | ঘটনা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১৯৮৭ | কোর্টের বাইরে রাজনৈতিক মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ | নিরাপত্তা ঢিলেঢালা |
| ২০০৫ | সুপ্রিম কোর্টে বোমা হামলা, তৎকালীন জেএমবির দায় স্বীকার | দেশের আইন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ |
| ২০২৫ | বৈধ অস্ত্রসহ সরাসরি প্রবেশ | প্রযুক্তি, নজরদারি ও প্রশাসনিক দক্ষতার চূড়ান্ত ব্যর্থতা |
সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন:
“যাকে ধরি, সে ব্যাংক থেকে ৫০০, ৭০০, ১০০০ কোটি টাকার নিচে নেয়নি। ব্যবসায়ীরা টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে।”
এই বক্তব্য একদিকে যেমন অর্থনৈতিক অনিয়মের স্বীকৃতি, অন্যদিকে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।
একই দিনে সুপ্রিম কোর্টে এমন অস্ত্রসহ প্রবেশ, আবার নাটোরে এমন স্বীকারোক্তি — ঘটনাগুলোকে আর বিচ্ছিন্ন বলা যায় না।
২০২৫ সালের এই সময়টায় বাংলাদেশ এক রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, বিচারিক প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
| ইস্যু | চিত্র |
|---|---|
| আদালত | শেখ হাসিনা ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার বিচার |
| প্রশাসন | নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ, রাজনৈতিক চাপ সয়তে অক্ষম |
| জনগণ | বিচার ও শৃঙ্খলার প্রতি আস্থাহীন |
| ব্যবসায়ী মহল | ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত, রাষ্ট্র থেকে পালানোর চেষ্টা |
সুপ্রিম কোর্টে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ, অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পতন — এই তিনটি ইস্যু একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। একটি রাষ্ট্র তখনই দুর্বল হয়, যখন প্রশাসন অকার্যকর, আইন প্রয়োগ দুর্বল, আর বিচারব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে।
আজকের বাংলাদেশ কি সেই চরম সংকটেই উপনীত?
সূত্র:
DMP সুপ্রিম কোর্ট ইউনিট
নাটোর জেলা প্রশাসন অনুষ্ঠান, ৩ আগস্ট ২০২৫
কালের কণ্ঠ প্রতিবেদন
BBC South Asia Security Files (2005–2025)
National Security Assessment Bangladesh Report (2025 Q2)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |