| বঙ্গাব্দ

দ্য ইকোনমিস্টের পূর্বাভাস: বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান শীর্ষে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-02-2026 ইং
  • 1305790 বার পঠিত
দ্য ইকোনমিস্টের পূর্বাভাস: বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান শীর্ষে
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমান

বাংলাদেশের মসনদে কে? দ্য ইকোনমিস্টের পূর্বাভাসে শীর্ষে তারেক রহমান

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী চেতনা থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক 'জেনারেশন জেড' বিপ্লব—বাঙালির প্রতিটি লড়াইয়ের মূলে ছিল ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত পরীক্ষায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী 'দ্য ইকোনমিস্ট' এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছে।

২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে সাময়িকীটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শীর্ষ দাবিদার।’

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চোখে ২০২৬-এর নির্বাচন

দ্য ইকোনমিস্টের এই পূর্বাভাস কেবল একা নয়; এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিনব্লুমবার্গ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে একই ধরনের বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। সাময়িকীটি ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের ঐতিহাসিক দেশে ফেরার দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে লিখেছে, বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি যখন ফিরছিলেন, তখন উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ঢল নেমেছিল। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের একটি বড় অংশ—যারা আগে কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি—তারা এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।

১৯০০ থেকে ২০২৬: এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রা

বাংলাদেশের রাজনীতির শিকড় ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে নিহিত। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর বিজয়—এই দীর্ঘ ৭৭ বছরের (পাকিস্তান আমলের ২৩ ও বাংলাদেশের ৫৪ বছর) ইতিহাসে বারবার ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। সাময়িকীটি উল্লেখ করেছে, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লব ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটায়। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পর এখন সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফেরার শেষ ধাপে রয়েছে। দ্য ইকোনমিস্ট মনে করিয়ে দেয়, তারেক রহমানের পরিবার ঐতিহাসিকভাবেই এ দেশের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র। তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান এখন এক নতুন রূপকল্প নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি ও আগামীর স্বপ্ন

তারেক রহমান নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পানির সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর মতো পরিবেশবান্ধব ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। ইকোনমিস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তার সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বাস্তববাদী নেতাদের সঙ্গে তিনি ভালো মানিয়ে নিতে পারবেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে সাময়িকীটি মন্তব্য করেছে যে, দলটি নির্বাচিত হলে সংযত শাসনের দাবি করলেও তাদের নারী প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়টি এবং অভিজ্ঞতার অভাব শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। এটি প্রকারান্তরে বিএনপির জন্য নির্বাচনী মাঠে বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

১৯০০ সালের মুক্তি সংগ্রাম থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ডিজিটাল ও সংস্কারমুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন—সবকিছুর চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লন্ডন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তার সংহতি তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভোটাররা কার হাতে দেশের চাবিকাঠি তুলে দেবেন, তা দেখার জন্য সারাবিশ্ব এখন ঢাকার দিকে তাকিয়ে।


সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট (ফেব্রুয়ারি ২০২৬), টাইম ম্যাগাজিন, ইত্তেফাক এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency