বাংলাদেশ প্রতিদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এখতিয়ার নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
যদিও মার্কিন সংবিধানে কেবল কংগ্রেসের হাতে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু ইতিহাস বলছে, অতীতে বহু প্রেসিডেন্টই কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে, মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি ও ডেমোক্র্যাট রো খান্না যৌথভাবে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে—
“কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া ইরানে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।”
বর্তমানে এই প্রস্তাবটি হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে রয়েছে।
যদি ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে এটি সরাসরি হাউসে ভোটের জন্য উত্থাপন হবে। প্রস্তাবটি পাশ হলে, প্রেসিডেন্টের একতরফা হামলার ক্ষমতা কার্যত সীমিত হয়ে যাবে।
মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান মন্তব্য করেন—
“এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কোনোভাবেই উচিত নয় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানো। যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, কেবল কংগ্রেসের।”
তিনি আরও বলেন,
“ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যুদ্ধ বন্ধ করতে চান, শুরু করতে নয়। এখন সেই প্রতিশ্রুতির পরীক্ষা চলছে।”
এ বিষয়ে শুধু সাংবিধানিক বাধা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে যেন তারা সংঘাতে না জড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানে হামলা চালালে সেটি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।
সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিলিপ ইনগ্রাম বলেন—
“ইরানে যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। যেখানে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।”
এই প্রণালি বন্ধ হলে তেল বাজার অস্থির হবে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও মন্দার আশঙ্কা তৈরি হবে।
ইতিহাসে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তেই জড়িয়েছে।
তাই ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যেও এমন পদক্ষেপের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, কংগ্রেস যদি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে না পারে, তাহলে বর্তমান উত্তেজনা যে কোনো সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান এক ধরনের ‘কৌশলগত দ্ব্যর্থতা’ তৈরি করছে।
একদিকে ইসরায়েলের পাশে অবস্থান, অন্যদিকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অংশ না নেওয়ার বার্তা।
এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে—যুক্তরাষ্ট্র এ সংঘাতে প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী থাকবে, না সক্রিয় যোদ্ধা হয়ে উঠবে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |