| বঙ্গাব্দ

সৌরবিদ্যুতে বদলে গেছে আল-মনসুরি গ্রাম: টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের নতুন দৃষ্টান্ত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-08-2026 ইং
  • 15924 বার পঠিত
সৌরবিদ্যুতে বদলে গেছে আল-মনসুরি গ্রাম: টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের নতুন দৃষ্টান্ত
ছবির ক্যাপশন: সৌরবিদ্যুতে বদলে গেছে আল-মনসুরি গ্রাম

ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ জনপদ আল-মনসুরি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছিল। জাতীয় গ্রিডের অপ্রতুল সরবরাহ এবং তীব্র গরমের কারণে বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে পড়েছিল। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামটি সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতায়নের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংস্থা এবং যৌথ অর্থায়নে চালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়। সূর্যতাপকে কাজে লাগিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মেলায় গ্রামটির কৃষি, স্বাস্থ্য সেবা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছে, যা টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের এক অনন্য বিশ্ব দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

সৌরশক্তিতে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন

সৌরবিদ্যুৎ চালুর আগে গ্রামটিতে গ্রীষ্মকালে দৈনিক কয়েক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকত না। পানীয় জলের পাম্প চালানো থেকে শুরু করে আলো জ্বালানো—সবকিছুতেই ছিল নাভিশ্বাস অবস্থা। বর্তমানে বাড়িগুলোতে রুফটপ সোলার প্যানেল ও স্টোরেজ ব্যাটারি বসানোর ফলে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। গ্রামের শিক্ষার্থীরা রাতে নিরবচ্ছিন্ন আলোয় পড়াশোনা করতে পারছে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিচালনা সহজ হয়েছে।

কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি

আল-মনসুরি গ্রামের প্রধান জীবিকা কৃষি। সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে কৃষকদের ব্যাপক অর্থ খরচ হতো। সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের পর কৃষি উৎপাদন খরচ প্রায় ৬০ শতাংশ কমে এসেছে। সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারণে স্থানীয় ছোট দোকানপাট, কুটির শিল্প এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলো দীর্ঘ সময় খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছে, যা গ্রামের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করেছে।

পরিবেশগত প্রভাব ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য আল-মনসুরি গ্রামের এই সাফল্য একটি কার্যকর পথপ্রদর্শক। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোয় গ্রামটির কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। একই সাথে ব্যাকআপ জেনারেটর থেকে সৃষ্টি হওয়া শব্দ ও বায়ুদূষণ বন্ধ হয়েছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, আল-মনসুরি গ্রামের এই স্বনির্ভর মডেল কেবল ইরাকের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং বিদ্যুৎ সংকটে থাকা যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের জন্য টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার এক বাস্তবসম্মত রূপরেখা প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency