লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | দুপুর ২:২৪ পিএম
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প নেই। দ্রুত ক্যালরি খরচের কথা বিবেচনায় অনেকেই স্কিপিং বা দড়ি লাফানোর মতো ব্যায়াম বেছে নেন। আবার অনেকে নিয়মিত হাঁটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু কোন ব্যায়াম করা হচ্ছে সেটাই বড় কথা নয়; বরং শরীরের সক্ষমতা, ব্যায়ামের সময়কাল এবং তা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাসও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ওজন কমানোর মূল শর্ত হলো ক্যালরি ঘাটতি (Calorie Deficit) তৈরি করা। অর্থাৎ, খাবারের মাধ্যমে শরীর যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করছে, তার চেয়ে বেশি ক্যালরি ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে হাঁটা ও স্কিপিং—দুটিই অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে, যদিও দুটির তীব্রতা ও শরীরে এর প্রভাব একেবারেই আলাদা।
শরীরচর্চা শুরু করার জন্য হাঁটা সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ ব্যায়ামগুলোর একটি।
কম-প্রভাবের ব্যায়াম (Low-Impact): দ্রুত হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াক করলে হৃদস্পন্দন বাড়ে এবং শরীর বেশি শক্তি ব্যয় করে। দৌড়ানো বা লাফানোর তুলনায় এতে জয়েন্টে চাপ অনেক কম পড়ে।
অন্যান্য উপকারিতা: নিয়মিত হাঁটা হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে, পেশির কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ সাহায্য করে।
ক্যালরি ব্যয়ের হিসাব: হাঁটার সময় কত ক্যালরি খরচ হবে, তা সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। শরীরের ওজন, হাঁটার গতি, রাস্তার ঢাল এবং কতক্ষণ হাঁটা হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর ক্যালরি ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করে। ধীরে হাঁটার চেয়ে দ্রুত হাঁটলে বা ঢালু পথে হাঁটলে বেশি ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব।
স্কিপিং তুলনামূলকভাবে উচ্চ তীব্রতার একটি কার্ডিও ব্যায়াম (High-Intensity Cardio)।
দ্রুত ক্যালরি খরচ: অল্প সময় স্কিপিং করলেও হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত বেড়ে যায়। এতে শুধু পায়ের পেশি নয়, হাত ও শরীরের মধ্যবর্তী অংশের (Core) পেশিও সক্রিয় থাকে। ফলে শরীরের ভারসাম্য, দ্রুততা ও কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস উন্নত হয়।
সতর্কতা: বারবার লাফানোর কারণে গোড়ালি, হাঁটু ও অন্যান্য জয়েন্টে তুলনামূলক বেশি চাপ পড়ে। তাই নতুনদের শুরুতেই দীর্ঘ সময় স্কিপিং করা উচিত নয়।
সাধারণভাবে প্রতি মিনিটের হিসেবে হাঁটার তুলনায় স্কিপিংয়ে বেশি ক্যালরি খরচ হয়, কারণ এর তীব্রতা বেশি। তবে মোট ক্যালরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যায়ামের সময়কাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণস্বরূপ: কেউ যদি মাত্র ১০ মিনিট স্কিপিং করতে পারেন, কিন্তু স্বাচ্ছন্দ্যে ৪৫ মিনিট হাঁটতে পারেন, তবে দীর্ঘ সময় হাঁটার ফলে মোট ক্যালরি ব্যয় স্কিপিংয়ের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। তাই কেবল প্রতি মিনিটের হিসাব না করে, আপনি কতক্ষণ ও কত নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারছেন, সেটিও বিবেচনায় রাখা দরকার।
যাঁদের জন্য হাঁটা সেরা: যারা সবেমাত্র ব্যায়াম শুরু করেছেন, শারীরিক সক্ষমতা কম অথবা কম-প্রভাবের ব্যায়াম পছন্দ করেন, তাদের জন্য হাঁটা দিয়ে শুরু করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। প্রথমে স্বাভাবিক গতিতে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়াতে পারেন।
যাঁদের জন্য স্কিপিং: ফিটনেস ও শরীরের সমন্বয় ক্ষমতা বাড়লে স্কিপিং তালিকায় যুক্ত করা যেতে পারে। তবে শুরুতেই টানা ২০-৩০ মিনিট না করে অল্প সময় নিয়ে বিরতি দিয়ে শুরু করা ভালো।
যাঁদের হাঁটু, গোড়ালি বা জয়েন্টে পূর্বে কোনো ব্যথা বা সমস্যা রয়েছে, তাঁরা উচ্চ-প্রভাবের এই ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। সর্বোপরি, এমন ব্যায়াম বেছে নেওয়া উচিত যা আপনার শরীরের সক্ষমতার সঙ্গে মানানসই এবং দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
(সূত্র: এনডিটিভি)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |