ভোটাধিকার রক্ষায় কেন্দ্র পাহারা ও পেপাল চালুর দাবি: বাঞ্ছারামপুরে জোনায়েদ সাকি
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী চেতনা থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ‘জুলাই বিপ্লব’—বাঙালির প্রতিটি লড়াই ছিল নিজের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার। সেই অধিকারের চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্র পাহারার ডাক দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের কলাকান্দি, উলুকান্দি, হিজুলিয়াকান্দি, ডোমরাকান্দি ও জয়কালীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬) আসনে মাথাল মার্কার এই প্রার্থী বলেন, "শুধু ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে গেলে চলবে না; সারাদিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে যেন কেউ এই ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে।"
তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে জোনায়েদ সাকি এক যুগান্তকারী দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমাদের যুবসমাজকে উন্নত প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে হবে যেন তারা ঘরে বসেই বিশ্ববাজারে কাজ করতে পারে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো বাংলাদেশে ‘পেপাল’ চালু হয়নি। পরবর্তী সরকারের প্রথম ও প্রধান কাজ হতে হবে বাংলাদেশে পেপাল চালুর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এতে আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা ন্যায্য পারিশ্রমিক সহজে দেশে আনতে পারবে এবং বেকারত্ব দূর হবে।"
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ পূর্ববর্তী স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ—সবখানেই ছিল সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ। বিগত ৭৭ বছরের (পাকিস্তান আমলের ২৩ ও বাংলাদেশের ৫৪ বছর) ইতিহাসে বারবার হোঁচট খেয়েছে গণতন্ত্র। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর বিপ্লব প্রমাণ করেছে, এ দেশের মানুষ স্বৈরতন্ত্র মেনে নেয় না। জোনায়েদ সাকি তাঁর বক্তব্যে সেই ইতিহাসের দোহাই দিয়ে বলেন, "কৃষক-শ্রমিক, দিনমজুর ও মেহনতি মানুষের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না করলে দেশে প্রকৃত শান্তি আসবে না। জুলাই বিপ্লবের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে হবে।"
বাঞ্ছারামপুরের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে সাকি বলেন, "এখানে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আমরা সবাই ভাই ভাই। এই সম্প্রীতি যেন কোনো অপশক্তি নষ্ট করতে না পারে। আমাদের লক্ষ্য এমন এক নিরাপদ বাঞ্ছারামপুর গড়া, যেখানে কোনো নারী হয়রানির শিকার হবে না এবং তরুণরা মাদক ও সন্ত্রাসের কবলে পড়বে না।"
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মুছা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ম.ম ইলিয়াস, উপজেলা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক শামীম শিবলী এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা বশির আপেলসহ বিএনপি ও গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে ধরা হচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় পরীক্ষা। ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। জোনায়েদ সাকির মতো নেতাদের এই ভোটকেন্দ্র পাহারার ডাক এবং পেপালের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দাবিগুলো মূলত ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ারই প্রতিফলন। বাঞ্ছারামপুরের ভোটাররা ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে এই আহ্বানের পক্ষে রায় দেবেন কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: যুগান্তর, ইত্তেফাক অনলাইন, বাসস এবং গণসংহতি আন্দোলন নির্বাচনী সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |