ঢাকা, ১৯৩০-এর দশক – শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন বাংলার প্রখ্যাত নেতা শেরেবাংলা একে ফজলুল হক। শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে তিনি লক্ষ্য করেন, মুসলিম শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট পরিশ্রম করেও পরীক্ষায় পাশ করছে না। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তার দৃষ্টি এড়ায়নি।
শেরেবাংলা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—হিন্দু শিক্ষকরা মুসলিম নাম দেখলেই ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে দিতেন। ফলস্বরূপ, মেধাবী মুসলিম ছাত্ররাও উচ্চ শিক্ষায় জায়গা করে নিতে পারতেন না।
এই অবিচারের অবসান ঘটাতে শেরেবাংলা পরীক্ষা পদ্ধতিতে র্যাডিক্যাল পরিবর্তন আনেন। পরীক্ষার্থীদের নামের পরিবর্তে রোল নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়, যাতে পরিচয় গোপন থাকে এবং নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন সম্ভব হয়।
নতুন পদ্ধতির প্রথম বছরেই এক মুসলিম ছাত্র হুমায়ুন কবির প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। পরবর্তীতে তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী হন এবং উপমহাদেশের শিক্ষা ও সাহিত্য জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে শেরেবাংলার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল।
শুধু শিক্ষা নয়, কৃষকের জীবনমান উন্নয়নেও শেরেবাংলার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। জমিদার ও সুদখোর মহাজনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তিনি গঠন করেন ঋণ সালিশি বোর্ড, যা বাংলার গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক স্বস্তি আনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবর্তিত মাইক্রোক্রেডিট সিস্টেম, যা সুদ নির্ভর ছিল, সেটিও কার্যত মাঠেমারা হয়ে যায় এই ব্যবস্থার কারণে।
শেরেবাংলার রোল নম্বর চালু করার সিদ্ধান্ত শুধু একটি নীতিগত পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক সাহসী পদক্ষেপ। তার মতো দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতা না থাকলে হয়তো উপমহাদেশে মুসলিম সমাজ শিক্ষাক্ষেত্রে এতদূর এগোতে পারত না।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |