প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের ঝটিকা ঢাকা সফর দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধ বা উত্তেজনা প্রশমিত করবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এর উত্তর ভবিষ্যতেই খুঁজতে হবে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেগম জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে ঢাকায় আসেন জয়শঙ্কর। তার এই সফরকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা একটি 'পজিটিভ জেশ্চার' বা ইতিবাচক সৌজন্য হিসেবে দেখলেও এর পেছনে বড় কোনো রাজনৈতিক বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনাকে আপাতত নাকচ করে দিয়েছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘ ৭৫ বছরের এক জটিল আখ্যান। ১৯৫০-এর দশকে যে সম্পর্কের বীজ বপিত হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে তা এক নতুন বাঁকে দাঁড়িয়েছে:
১৯৫০-এর দশক (নেহরু-লিয়াকত আমল): তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সীমানা ও পানি বণ্টন নিয়ে প্রথম বিবাদ শুরু হয়। তবে দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ছিল নিবিড়।
১৯৭১ - সম্পর্কের স্বর্ণযুগ: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সর্বাত্মক সহায়তা দুই দেশের সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। তবে ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর এই সম্পর্কে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে।
১৯৯১-২০০৬ (খালেদা জিয়ার শাসনামল): বেগম জিয়ার দুই মেয়াদের শাসনামলে ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে তখন সম্পর্ক কিছুটা শীতল ছিল।
২০২৪-২০২৫ এর প্রেক্ষাপট: ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে। এই আবহে জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মতে, বেগম খালেদা জিয়ার যে রাজনৈতিক ইমেজ, তা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশই শ্রদ্ধার সাথে স্বীকার করে। তিনি বলেন, "ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন, তিনি পুরো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। এটাকে আমরা ভালো সৌজন্য হিসেবেই দেখছি। এর চেয়ে বেশি কিছু অর্থ খুঁজতে না যাওয়াই ভালো।" তৌহিদ হোসেন আরও পরিষ্কার করেন যে, জয়শঙ্করের সাথে তার কোনো 'ওয়ান-টু-ওয়ান' বা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। অন্যান্য বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে সাধারণ সৌজন্য বিনিময় হয়েছে মাত্র। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।
| দেশ | প্রতিনিধি | পদবী |
| ভারত | ড. এস জয়শঙ্কর | পররাষ্ট্রমন্ত্রী |
| পাকিস্তান | সরদার আয়াজ সাদিক | স্পিকার, জাতীয় সংসদ |
| ভুটান | ডি এন ডুঙ্গেল | পররাষ্ট্রমন্ত্রী |
| নেপাল | বালা নন্দা শর্মা | পররাষ্ট্রমন্ত্রী |
| শ্রীলঙ্কা | বিজিতা হেরাথ | পররাষ্ট্রমন্ত্রী |
| মালদ্বীপ | ড. আলি হায়দার আহমেদ | বিশেষ দূত ও মন্ত্রী |
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে ২০২৫ সালটি একটি ক্রান্তিকাল। বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে প্রতিবেশী দেশগুলোর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, ব্যক্তি ইমেজের কাছে মাঝে মাঝে রাজনৈতিক তিক্ততা হার মানে। তবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো জয়শঙ্করের এই সৌজন্য সফরের মাধ্যমে মিটবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
সূত্র: ১. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিং (১ জানুয়ারি ২০২৬)।
২. দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিষয়ক ঐতিহাসিক দলিল (১৯৫০-২০২৪)।
৩. বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কূটনৈতিক প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |