আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পর্যালোচনা ডেস্ক
৩১ জুলাই, ২০২৬
বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করেছে ভারতের সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি। একই সাথে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে একটি স্থায়ী দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদনে জানা গেছে, 'ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ' শীর্ষক স্থায়ী কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নসংক্রান্ত সরকারি জবাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA)।
ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিকীকরণ: নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে স্বাভাবিক করার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার কাঠামো: ভিসা নীতি পর্যালোচনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের হয়রানি কমাতে যৌথ কনস্যুলার ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির সুপারিশ।
জনগণের যোগাযোগে প্রভাব: ভিসা প্রক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত কড়াকড়ি দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পারস্পরিক সুসম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করেছে কমিটি।
শেখ হাসিনার অবস্থান স্পর্শকাতরতা: শেখ হাসিনাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতীয় মাটি ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে ভারত সরকার।
কমিটির পর্যবেক্ষণে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সুবিধা অতিরিক্ত সীমিত করা কিংবা অস্বাভাবিক নিরাপত্তার কড়াকড়ি বজায় থাকলে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার (People-to-People Contact) সুসম্পর্ক বাধাগ্রস্ত হবে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি উভয় দেশের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রস্তাব করেছে:
প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা কাঠামোর প্রধান লক্ষ্য:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ১. ভিসানীতির নিয়মিত পর্যালোচনা ও আধুনিকীকরণ। │
│ ২. বৈধ ও সাধারণ ভ্রমণকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি নিরসন। │
│ ৩. দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল বজায় রাখা। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান করার বিষয়টিও স্থান পেয়েছে।
সরকারের পক্ষে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থায়ী কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে:
ভারত তার দীর্ঘদিনের মানবিক নীতি (Humanitarian Policy) অনুসরণ করেই শেখ হাসিনাকে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে।
তবে কোনো অবস্থাতেই ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তাঁকে দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিবর্তিত গতিপথ
ভ্রমণ ও অর্থনীতি: বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে যান। ভিসা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সংকুচিত থাকলে ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম খাতসহ সার্বিক অর্থনৈতিক বিনিময়ে বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য, যা এই প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে।
কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা: নিরাপত্তা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়েও ভিসা প্রক্রিয়া চালু রাখা এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ঢাকার নতুন পরিস্থিতির সাথে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |