| বঙ্গাব্দ

ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের: ঈদ ২০২৬ বিশেষ প্রতিবেদন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-03-2026 ইং
  • 549117 বার পঠিত
ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের: ঈদ ২০২৬ বিশেষ প্রতিবেদন
ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম আর ত্যাগের পর ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে এক অন্যরকম আবহে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আজ শনিবার (২১ মার্চ, ২০২৬) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঈদ-পরবর্তী এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৯০০ থেকে ২০২৬: সংগ্রামের ইতিহাস ও নতুন সূর্যোদয়

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৪৭-এর দেশভাগ—প্রতিটি অধ্যায়ই ছিল এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে দুটি প্রধান স্তম্ভ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, "এই দুই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করেই আমরা একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে চাই। ১৯০০ সাল থেকে আজ অবধি আমাদের পূর্বপুরুষরা যে শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ।"

যমুনায় ঈদ শুভেচ্ছা ও জনসম্পৃক্ততা

আজ সকাল ১০টা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শুরু হয় ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে বিদেশি কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, আলেম-ওলামা, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, "দেশবাসীর সহযোগিতা থাকলে জনগণের চাওয়া অনুযায়ী দেশ গঠনে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। আমরা কোনো বিভাজন চাই না, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও সুখী বাংলাদেশ গড়তে চাই।"

পূর্বসূরিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ব্যক্তিগত সময়

যমুনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে যান। সেখানে তিনি তাঁর বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির কল্যাণ প্রার্থনা করেন। এরপর দিনের বাকি সময়টুকু গুলশানের বাসভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্ত ব্যক্তিগতভাবে কাটাবেন বলে জানা গেছে।

২০২৬-এর প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের সেই উত্তাল ব্রিটিশবিরোধী চেতনা থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই সংস্কারমুখী বাংলাদেশ—প্রতিটি ধাপে নেতৃত্বের পরিবর্তন এলেও জনগণের মৌলিক চাহিদা ছিল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আজকের এই ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক সেই ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। বর্তমান সরকারের অধীনে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।

সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (প্রেস উইং), যমুনা স্টেট হাউস ডায়েরি, যুগান্তর এবং জাতীয় রাজনৈতিক আর্কাইভ।

বিশ্লেষণ: বিগত এক শতাব্দীর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২৬ সালের এই ঈদটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শহীদদের স্মরণ এবং দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ এখন একটি পরিপক্ক গণতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে ধাবিত হচ্ছে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই এখন বর্তমান প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ।


সুত্র: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং, যমুনা ভবন এবং যুগান্তর অনলাইন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency