| বঙ্গাব্দ

শাহজালাল থার্ড টার্মিনালে ৩,২০০ কোটি টাকার অনিয়ম; ৫০০ টাকার চারা গাছ ১ লাখ!

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-07-2026 ইং
  • 12223 বার পঠিত
শাহজালাল থার্ড টার্মিনালে ৩,২০০ কোটি টাকার অনিয়ম; ৫০০ টাকার চারা গাছ ১ লাখ!
ছবির ক্যাপশন: ৫০০ টাকার চারা গাছ ১ লাখ!

শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে ৩,২০০ কোটি টাকার পুকুরচুরি: সিএজি প্রতিবেদনে উঠে এলো ভয়াবহ অনিয়ম

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অনুসন্ধানী ডেস্ক

২৫ জুলাই, ২০২৬

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন আর্থিক অনিয়মের তথ্য। সাধারণ নার্সারিতে মাত্র ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় মেলে—এমন চারা গাছের দরদাম দেখানো হয়েছে প্রতিটিতে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশ-কাণ্ডের’ স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এই প্রকল্পে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার অবৈধ ব্যয়, অনুমোদনহীন ভেরিয়েশন ও ভুয়া বিল পরিশোধের খবর ফাঁস হয়েছে।

এই বিশাল অনিয়মকে এখন 'পোস্ট-ফ্যাক্টো' (পরবর্তী সময়ে) অনুমোদনের মাধ্যমে আইনি বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে, যাকে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।

স্মার্ট সারসংক্ষেপ (Quick Takeaways)

  • নয়া বালিশ-কাণ্ড: ২০০-৫০০ টাকার গাছ ১ লাখ টাকায় ক্রয় দেখিয়ে গাছ লাগানোয় প্রায় ২০ কোটি এবং পরিচর্যায় ৪.৮০ কোটি টাকা খরচ।

  • অনুমোদনহীন ব্যয়: বেআইনি ভেরিয়েশনের মাধ্যমে ৩,২০০ কোটি টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে পরিশোধ করা হয়েছে।

  • ভুয়া পুকুর ও মাটির বিল: আগের জলাশয়কে নতুন পুকুর দেখিয়ে ১০ কোটি এবং সাড়ে ৬ কিমি দূরে মাটি ফেলার মিথ্যা বিল দেখিয়ে আরও ৮৩ কোটি টাকা লোপাট।

  • উদ্বোধনী আয়োজন: চুক্তি-বহির্ভূত কেবল সীমিত পরিসরে আংশিক উদ্বোধনের (Soft Opening) আয়োজনেই উড়ানো হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা।

শাহজালাল থার্ড টার্মিনালে অনিয়মের চিত্রচিত্রালী

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ১৩,৫০০ কোটি টাকা ধরা হলেও তা কয়েক দফায় বাড়িয়ে প্রায় ২১,৩৯৮ কোটি টাকায় নেওয়া হয়। যেখানে জাপানের জাইকার অর্থায়নে প্রকল্পটির ঠিকাদার হিসেবে ছিল ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (জাপানের মিতসুবিশি, ফুজিটা ও কোরিয়ার স্যামসাং)।

অনিয়ম ও লুটের কিছু বড় খাত:
• সৌন্দর্যবর্ধন গাছ  : ২০০-৫০০ টাকার চারা গাছ ১ লাখ টাকায় কেনা (মোট প্রায় ২৪.৮ কোটি টাকা)।
• মাটির বিল        : মাটি ২ কিমি ফেলার পরও সাড়ে ৬ কিমি দূরের বিল দেখিয়ে ৮৩ কোটি টাকা পরিশোধ।
• সফট ওপেনিং      : ফিতা কাটা ও আংশিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়।
• ডিজেল ও তেল     : ডিজেল পাম্প তৈরিতে ১২ কোটি এবং জ্বালানি তেলে ৪১ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো।

‘পোস্ট-ফ্যাক্টো’ সেটেলমেন্ট নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

প্রকল্পের বড় অনিয়মগুলোকে তদন্ত না করে ‘অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটি’র মাধ্যমে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টার বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

ড. ইফতেখারুজ্জামান (নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি):

"চিহ্নিত অনিয়মগুলো যদি পোস্ট-ফ্যাক্টো অনুমোদনের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হয়, তবে তা হবে আরেক দুর্নীতির শামিল। অপরাধ করে সেটেলমেন্ট কমিটির মাধ্যমে বিষয়টিকে বৈধ করার সুযোগ নেই।"

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত অবশ্য আশ্বস্ত করে বলেছেন, "যাঁরা ভুয়া ভেরিয়েশন ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতির বিষয় নিয়ে কোনো অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট হবে না; নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

গভীর কৌশলগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্লেষণ (In-Depth Analytical Breakdown)

┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│                    মেগা প্রকল্পের দুর্নীতি ও জবাবদিহিতা                │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • জাইকা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দায়: বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান জানান,     │
│   নকশা, প্রাক্কলন ও ভেরিয়েশন অনুমোদনের দায়িত্ব ছিল জাপানি পরামর্শকের।    │
│ • প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা: নির্ধারিত ১% ভেরিয়েশনের স্থলে ২৩% অর্থ কোনো অনুমোদন│
│   ছাড়া খরচ করা সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার ভঙ্গুর অবস্থাকেই প্রকাশ করে।  │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

১. স্বাধীন তদন্ত কমিশন বনাম প্রকল্প স্থবিরতা

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মের দায় নির্ধারণ করে জড়িত রাঘববোয়ালদের শাস্তির আওতায় না আনলে রাষ্ট্রীয় অর্থে এমন লুটপাট বন্ধ হবে না। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত চলাকালীন যেন আন্তর্জাতিক মানের এই বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

২. সরষের মধ্যে ভূত কাটানোর তাগিদ

অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বেবিচক যে ডিসপিউট বোর্ড ও অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটি গঠন করেছিল, তাতে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকৃত রাঘববোয়ালদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জোর দাবি উঠেছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency