| বঙ্গাব্দ

সরকারকে অস্থিতিশীল করতে মুছাব্বিরকে হত্যা: মির্জা ফখরুল ও ২০২৬ নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-01-2026 ইং
  • 4224275 বার পঠিত
সরকারকে অস্থিতিশীল করতে মুছাব্বিরকে হত্যা: মির্জা ফখরুল ও ২০২৬ নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি
ছবির ক্যাপশন: মির্জা ফখরুল

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই মুছাব্বিরকে হত্যা: মির্জা ফখরুল ও ২০২৬-এর নির্বাচন পূর্ববর্তী সংকট

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সাল এক ক্রান্তিকাল হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। একদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড জনমনে গভীর শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। রাজধানীর তেজতুরী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার এক গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিবের প্রতিক্রিয়া ও গভীর উদ্বেগ

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে এক শোক বার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, "আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এই লোমহর্ষক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে।" তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসরদের কঠোর হস্তে দমন করা না হয়, তবে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে। গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার রক্ষায় তিনি দেশের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ২০২৬-এর নির্বাচনী ডামাডোল (১৯০০-২০২৬)

বাংলার রাজনীতির গতিপথ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই জনপদে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সবসময়ই ক্ষমতার পালাবদলের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

  • ১৯০০-১৯৭১: ব্রিটিশ শাসন আমল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডগুলো দেশের গণতন্ত্রকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।

  • ১৯৯১-২০২৪: ১৯৯১ সালের পর গণতান্ত্রিক ধারা শুরু হলেও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং পরবর্তী সময়ে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনগুলো রাজনৈতিক বিভাজনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ সংস্কারের পথে যাত্রা শুরু করে।

  • ২০২৫-২০২৬: ২০২৫ সালের শেষ দিকে নির্বাচন কমিশন যখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে, তখন থেকেই অপরাধী চক্র এবং পরাজিত শক্তির দোসররা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ডিসেম্বরে শরিফ ওসমান হাদি এবং জানুয়ারিতে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচনের আগে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে।

বিশ্লেষণ: লক্ষ্য যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, ঠিক তখনই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অপরাধীরা মূলত ‘প্রক্সি গেম’ খেলছে যাতে জনগণের মধ্যে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে অনাস্থা তৈরি হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী, অবিলম্বে এই খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে আগামী মাসের ১২ তারিখ ভোটারদের কেন্দ্রে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রেস রিলিজ ও মহাসচিবের ভিডিও বার্তা। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্যানেলের তথ্য।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency