| বঙ্গাব্দ

মোদি-ইউনূস বৈঠক: বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে সম্পর্কের উন্নয়ন?

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-03-2025 ইং
  • 6225613 বার পঠিত
মোদি-ইউনূস বৈঠক: বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে সম্পর্কের উন্নয়ন?
ছবির ক্যাপশন: মোদি-ইউনূস বৈঠক: বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে সম্পর্কের উন্নয়ন?

বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-ইউনূস বৈঠক: ভারতের প্রতিক্রিয়া ও বাংলাদেশের আশাবাদ

আগামী মাসের শুরুতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক জোট বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিল্লিকে দিয়েছে ঢাকা।

প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের পর পরই দুই দেশের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রাজনীতিতে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কিছুটা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে গেছে। এসব ঘটনার পর, প্রশ্ন উঠছে—এই বৈঠক কি দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে সাহায্য করবে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই বৈঠককে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন, কিন্তু বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার (২১ মার্চ) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইউনূস-মোদির বৈঠকের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা আপনি জানতে চাইছেন, সে বিষয়ে আমার কাছে শেয়ার করার মতো কোনো আপডেট নেই।” এর মানে হলো, দিল্লি এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

এই বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না, এবং দিল্লি সরকার এখনও কোনভাবেই এই বৈঠকটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

পূর্ববর্তী উদ্যোগের ব্যর্থতা

এটা একমাত্র বৈঠক নয়, যা বাংলাদেশ এবং ভারতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছে। এর আগে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে, ভারত সেবার সেই প্রস্তাবটি উপেক্ষা করেছিল এবং সেই বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়নি। যদিও সেই সময় দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনে সরাসরি কথা হয়েছিল, তবুও তাদের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন

ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সূত্রের বরাতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি সূত্র জানিয়েছে, "বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কের পরিস্থিতি এমন যে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ নেই।" এই প্রতিবেদনটি আরও স্পষ্ট করে জানায় যে, দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন প্রক্রিয়া এখনও অনেকটা স্থবির, যার কারণে বৈঠকটির সম্ভাবনা অনিশ্চিত।

বাংলাদেশ সরকারের আশাবাদ

তবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিমানসটেক সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠকটি আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই বৈঠকটি যদি অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, তা বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে কিছুটা হতাশা দেখা যাচ্ছে। এই বৈঠকটি যদি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা একধরণের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা কাটাতে সাহায্য করবে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট দিশা পাওয়া যাচ্ছে না।

সম্মেলনের সময়সূচী

উল্লেখযোগ্য যে, আগামী ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন, যাতে যোগ দিতে ৩ এপ্রিল ব্যাংকক যাবেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে ৪ এপ্রিল। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা হবে, তবে তার আগে এই দুই নেতার বৈঠক ঘটবে কিনা, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency