| বঙ্গাব্দ

হাদির সাংস্কৃতিক লড়াই পূর্ণ করার অঙ্গীকার আখতার হোসেনের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-12-2025 ইং
  • 2062014 বার পঠিত
হাদির সাংস্কৃতিক লড়াই পূর্ণ করার অঙ্গীকার আখতার হোসেনের
ছবির ক্যাপশন: আখতার হোসেন

হাদির শুরু করা সাংস্কৃতিক লড়াই পূর্ণ করার শপথ নিলেন আখতার হোসেন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির অসম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক লড়াইকে পূর্ণতা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, হাদি যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সার্বভৌম ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াই ও হাদির আদর্শ

আখতার হোসেন বলেন, "শরীফ ওসমান হাদিকে আল্লাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কবুল করেছেন। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে বিদেশি আগ্রাসন, বিশেষ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করে নিজেদের মতো পরিচালনা করতে। হাদি ভাই যে সাংস্কৃতিক লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই লড়াইকে আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাব।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বাংলাদেশে যেন একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকে, যেখানে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের গ্যারান্টি থাকবে।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পরম্পরা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের লড়াই শুরু হয়েছিল, ১৯৭১ সালে তা চূড়ান্ত রূপ পায়। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। আখতার হোসেনের মতে, শহীদ আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে আবু সাঈদ ও শরীফ ওসমান হাদি—সবার শাহাদাতের উদ্দেশ্য ছিল এক ও অভিন্ন। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য যারা রক্ত দিয়েছিলেন, আজ ২০২৫ সালে এসে হাদিরা সেই একই সার্বভৌমত্বের চেতনা রক্ষা করতে গিয়ে জীবন দিচ্ছেন।

জুলাইয়ের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

জানাজায় উপস্থিত হয়ে আখতার হোসেন দলমত নির্বিশেষে সবাইকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "শহীদ আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদসহ জুলাইয়ের শহীদরা যে ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন, সেই লক্ষ্যে কাজ করাই হবে আমাদের প্রধান কাজ। সব ধরনের বিভেদ ভুলে আমাদের জুলাইকে ধারণ করতে হবে এবং বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে।"

উল্লেখ্য, হাদির জানাজায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে, যা জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণদের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আবেগ ও আস্থার প্রতিফলন।


বিশ্লেষণ: আখতার হোসেনের এই বক্তব্য ২০২৫ সালের পরিবর্তিত রাজনীতির গতিপথ নির্দেশ করে। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে সাংস্কৃতিক লড়াই শুরু হয়েছিল, বর্তমানে তা 'ভারতীয় আধিপত্যবাদ' বিরোধী স্লোগানে রূপ নিয়েছে। শরীফ ওসমান হাদিকে সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক কমিটি মূলত তরুণ প্রজন্মের মাঝে একটি নতুন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরি করতে চাইছে, যা আগামী ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।


সূত্র: জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ থেকে সংগৃহীত বক্তব্য এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency