প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ও প্রবীণ আইনবিদ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক, তবে সংবিধানের মৌলিক নীতি রক্ষার ক্ষেত্রে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা অপরিহার্য।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. কামাল বলেন, “যখনই কেউ সংবিধান থেকে বিচ্যুত হয়, তখন আমরা সম্মিলিতভাবে হস্তক্ষেপ করে তা থামাতে এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি। আমি বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমেই সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারবে।”
তিনি বলেন, আইনজীবী সমাজের ভেতরও সংবিধানের ধারাগুলো নিয়ে বিভক্তি রয়েছে, যা সংবিধানের পূর্ণ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। এ বিভক্তিই সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটকে গভীর করছে।
তার মতে, সংবিধানের মৌলিক নীতিকে উপেক্ষা করে দেশ শাসনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ারই কথা। এজন্য কোন কোন ধারা বাস্তবায়িত হচ্ছে না তা সনাক্ত করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের পদ থেকে সরাতে হবে।
ড. কামাল আরো বলেন, “যারা সাংবিধানিক পদে আছেন তারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন। যদি সেই শপথ ভঙ্গ করেন, তবে সংবিধান খর্ব হয়, সাংবিধানিক শাসন ভেঙে পড়ে এবং সুশাসন বিলীন হয়ে যায়।”
বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকার তখন সংবিধানের চারটি মৌলিক নীতি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—ঘোষণা করেছিল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সামরিক শাসন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এসব নীতি বারবার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এরশাদ সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেও সংবিধানের মৌলিক নীতি বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
২০০৮ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরায় কিছু মৌলিক নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব–এর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়।
২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও সাংবিধানিক পদে দায়িত্বহীনতার সমালোচনা আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ড. কামালের বক্তব্য তাই শুধু একটি সেমিনারের মন্তব্য নয়, বরং গত অর্ধশতাব্দীর অভিজ্ঞতার আলোকে একটি সতর্কবার্তা।
সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। আইনজীবী মহল ও নাগরিক সমাজ মনে করে, সংবিধানকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য ছাড়া গণতন্ত্র ও সুশাসন সম্ভব নয়।
ড. কামালের মতে, “আমাদের সাংবিধানিক শাসনকেই শক্তিশালী করতে হবে। না হলে দুর্নীতি, ধ্বংসাত্মক শক্তির উত্থান এবং প্রশাসনিক সংকট একের পর এক জাতিকে অচলাবস্থায় ফেলবে।”
১. সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সেমিনার প্রতিবেদন, ২০২৫
২. বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ ও সংশোধনীসমূহ (সরকারি গেজেট)
৩. ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ: ১৯৭২–২০২৫ (জাতীয় সংসদ গ্রন্থাগার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |