| বঙ্গাব্দ

২০২৩ সালের ১২ জুলাই: বিএনপির সেই ঐতিহাসিক একদফা ঘোষণার স্মৃতিচারণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-07-2026 ইং
  • 12947 বার পঠিত
২০২৩ সালের ১২ জুলাই: বিএনপির সেই ঐতিহাসিক একদফা ঘোষণার স্মৃতিচারণ
ছবির ক্যাপশন: ২০২৩ সালের ১২ জুলাই

দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ’; নয়াপল্টনের সেই ঐতিহাসিক অগ্নিঝরা একদফা ঘোষণার স্মৃতিচারণ

বিশেষ নিবন্ধ | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬

দিনটি ছিল ২০২৩ সালের ১২ জুলাই। আজ থেকে ঠিক ৩ বছর আগের এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও টার্নিং পয়েন্ট অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সেদিন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক স্মরণকালের বিশাল ও অভূতপূর্ব মহাসমাবেশ থেকে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছিল।

সেই ঐতিহাসিক সমাবেশে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুদূর লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে ঘোষণা করেছিলেন ঐতিহাসিক ‘একদফা’। ঢাকার প্রকম্পিত মাইকে লাউডস্পিকারে বেজে ওঠা তাঁর সেই বজ্রকণ্ঠের মূল স্লোগান ও বার্তাটি ছিল— ‘দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ’। স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে তিনি দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন।

যুগপৎ আন্দোলনের সেই মহাজাগরণ

বিএনপির এই ঐতিহাসিক একদফা ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একই দিনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল ও জোটগুলোও রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পৃথক পৃথক সমাবেশ থেকে অভিন্ন একদফার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে, ১২ দলীয় জোট বিজয়নগর এলাকায়, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট পুরানা পল্টন এলাকায়, গণফোরাম ও পিপলস পার্টি মতিঝিল এলাকায় এবং জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য সমমনা দলগুলো স্ব-স্ব অবস্থান থেকে রাজপথে নেমে এসে এক অভূতপূর্ব গণজোয়ারের সৃষ্টি করে। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তেইশের জুলাইয়ের সেই তীব্র গণ-আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংকল্পই মূলত পরবর্তী সময়ে চব্বিশের (২০২৪) ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের এক মজবুত ও অবিনাশী ভিত্তি তৈরি করেছিল।

বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাসে ২০০৭ সালের শেষের দিকে ওয়ান-ইলেভেনের জেনারেল মঈন ও ফখরুদ্দিনের মাইনাস-টু ফর্মুলার সরকার গঠনের পর থেকেই বিএনপি ও বিরোধী দলগুলোর ওপর শুরু হয়েছিল চরম নির্যাতন, গুম, খুন, হামলা ও মামলার এক অন্তহীন কালো অধ্যায়। দমন-পীড়নের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের নির্দেশে পুলিশ বর্বর হামলা, ভাঙচুর ও গণগ্রেফতার চালায় এবং পরদিন গভীর রাতে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হন তৎকালীন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তবে সমস্ত রাষ্ট্রীয় ভয়ভীতি ও বুলেটের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগ মাঠের ঐতিহাসিক বিভাগীয় মহাসমাবেশ থেকে প্রধান অতিথি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক ‘১০ দফা’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন, যা পরবর্তীতে যুগপৎ আন্দোলনের এক শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলে।

নয়াপল্টনে লাখো জনতার অশ্রু ও তারেক রহমানের বজ্রকণ্ঠ

সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের পুরো জুলাই মাস জুড়ে বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে সরকারি পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলা, পালটা কর্মসূচি এবং নিষ্ঠুরতম নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। তেইশের জুলাইয়ের তেমনি এক ভয়াল, অগ্নিঝরা দুপুরে আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা আর চারদিকের চরম প্রতিকূলতার মাঝে নয়াপল্টনের মহাসমাবেশে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়।

সেদিন দেশের তরুণ সমাজের কাছে তারুণ্যের প্রতীক এবং স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের রক্ত ও নীতির যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানের ভাষণ প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে প্রকম্পিত মাইকে বাজানো হয়। তাঁর সেই অকুতোভয় ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য লাখো জনতার ভেতরের সব ভয়কে জয় করে এক অদম্য সাহসের জন্ম দিয়েছিল এবং পুরো নয়াপল্টন ময়দানকে এক ঐতিহাসিক গণসমুদ্রে কাঁপিয়ে তুলেছিল। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও চরম আবেগে ফেটে পড়া লাখো মানুষ সেদিন গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে অশ্রু সজল চোখে শপথ নিয়েছিলেন।

আজ অনেকেই প্রশ্ন তোলেন— চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের অভূতপূর্ব জৌলুসের আড়ালে কি তেইশের জুলাইয়ের সেই সুকঠিন ও রক্তঝরা গণ-আন্দোলন হারিয়ে গেছে? কিন্তু বাস্তবতা হলো, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের স্বপ্নে পাগলপারা জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলো কোনোভাবেই ভুলে যাওয়ার নয়। শত শত বাধা, নিপীড়ন ও বুলেটের ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে গড়ে ওঠা সেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দুটি দিন ছিল একেকটি মহাসমুদ্রের মতো— একটি ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ এবং অন্যটি ২০২৩ সালের ১২ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণজোয়ার।

দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রাজপথে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীদের ত্যাগ, পঙ্গুত্ব বরণ ও আত্মত্যাগের চূড়ান্ত ফসল এই ১২ জুলাই। এই দিনে বিএনপির শীর্ষ নেতার মুখ থেকে আসা সেই ঐতিহাসিক ‘১-দফা’ ঘোষণা আজ দলের প্রতিটি নেতাকর্মী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল এক অনন্য প্রেরণা ও অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।

এক নজরে ১২ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক তাৎপর্য

  • একদফার ৩ বছর: ২০২৩ সালের ১২ জুলাই নয়াপল্টন থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের একদফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়

  • তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ: প্রথম বারের মতো প্রকম্পিত মাইকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে লাখো জনতাকে দিকনির্দেশনা দেন তারেক রহমান

  • যুগপৎ জোটের ঐক্যবদ্ধ ডাক: একই দিনে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট ও জামায়াতসহ সব দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে একদফা ঘোষণা করে

  • চব্বিশের অভ্যুত্থানের ভিত্তি: তেইশের জুলাইয়ের এই সুকঠিন রাজপথের লড়াই-ই চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়

  • দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ: ওয়ান-ইলেভেন ও স্বৈরাচারী আমলের দীর্ঘ নির্যাতন পেরিয়ে ১২ জুলাই ছিল বিএনপির রাজনৈতিক সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল

রাজনীতি ও ইতিহাস ডেস্ক | বিএনপি একদফা আন্দোলন ২০২৩, তারেক রহমান নয়াপল্টন ভাষণ, ১২ জুলাই ঐতিহাসিক সমাবেশ, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেল

এই ঐতিহাসিক ১২ জুলাইয়ের একদফা আন্দোলনের ৩ বছর পূর্তিতে আজ নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো স্মরণ সভা বা বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে কিনা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকা জুলাই-আগস্টের ছাত্র নেতারা তেইশের এই আন্দোলনকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন এবং দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও ইতিহাসের প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency