আন্তর্জাতিক ও বেইজিং ব্যুরো | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬
চীনের সামরিক বাহিনী (PLA) ও বেসামরিক প্রশাসনে নিজের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ও শতভাগ রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) নেওয়া দুর্নীতিবিরোধী নজিরবিহীন কঠোর ‘শুদ্ধি অভিযান’ আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনের সর্বোচ্চ আইনসভা ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস’ (NPC) থেকে দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ৬ জন হাই-প্রোফাইল শীর্ষ জেনারেলসহ মোট ১৩ জন প্রভাবশালী সদস্যকে একযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া আইনসভার আরও একজন সদস্য এই কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আগেই নিজে থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার রাতে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে জারি করা এক জরুরি ও বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই গণ-বহিষ্কারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
হংকংভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ (SCMP)-এর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনসভা থেকে অপসারিত ৬ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে বেশ কয়েকজন চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষার অত্যন্ত স্পর্শকাতর দায়িত্বে থাকা হাই-প্রোফাইল কমান্ডার। তাঁদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে গভীর দুর্নীতির তদন্ত চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপসারিত ও বহিষ্কৃত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (CMC) অতি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের জেনারেল সু সুয়েচিয়াং। উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (CCP) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে তাঁর রহস্যজনক অনুপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন ও রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এত দিনে এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁর নিখোঁজ থাকার পেছনের আসল রহস্য উন্মোচিত হলো।
জেনারেল সু সুয়েচিয়াং ছাড়াও চীনের সীমান্ত প্রতিরক্ষার অন্যতম প্রধান শাখা ‘ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড’-এর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াং কাংপিংও এই গণ-বহিষ্কারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই বিশাল ঝাড়ু বা ক্র্যাকডাউন কেবল সামরিক বাহিনীর ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং চীনের বেসামরিক প্রশাসন ও মূল ধারার রাজনীতিতেও এর বড় ধরনের জোরদার ধাক্কা লেগেছে। আইনসভা থেকে একযোগে বাদ পড়া অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চীনের অত্যন্ত কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর অঞ্চল জিনজিয়াং প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক প্রধান এবং বেইজিংয়ের একজন শীর্ষ আর্থিক নিয়ন্ত্রক (Financial Regulator) কর্মকর্তা।
রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সামরিক বাহিনী, পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র উইং (Rocket Force) এবং সরকারের অন্দরমহল থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে এবং কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি শতভাগ রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করতে বেশ কিছুদিন ধরেই এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।
বেসামরিক প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর ভেতর থেকে এই ধরনের একের পর এক গণ-বহিষ্কারের ঘটনা পরিষ্কার বার্তা দেয় যে, চীনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ও শুদ্ধি অভিযানে বেইজিংয়ের এই কঠোর অবস্থান শিথিল হওয়ার বিন্দুমাত্র কোনো সম্ভাবনা নেই, বরং আগামী দিনগুলোতে এটি আরও কঠোর ও তীব্রতর হতে যাচ্ছে।
মূল অ্যাকশন: চীনের আইনসভা (NPC) থেকে ১৩ জন সদস্যকে সরাসরি বহিষ্কার ও ১ জনের পদত্যাগ।
সামরিক ধাক্কা: বহিষ্কৃতদের মধ্যে পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) ৬ জন শীর্ষ জেনারেল ও কমান্ডার রয়েছেন।
হাই-প্রোফাইল টার্গেট: সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ইকুইপমেন্ট উইংয়ের প্রধান জেনারেল সু সুয়েচিয়াং অপসারিত।
বেসামরিক শুদ্ধি: তালিকায় আছেন জিনজিয়াং প্রদেশের সাবেক সিপিপি প্রধান ও শীর্ষ আর্থিক নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা।
মূল উদ্দেশ্য: শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং দলের প্রতি ১০০% আনুগত্য নিশ্চিত করা।
বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের পরবর্তী রদবদলের লাইভ আপডেট, তাইওয়ান প্রণালীতে পিএলএ (PLA) ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের নতুন রণকৌশল, বেইজিংয়ের কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |