| বঙ্গাব্দ

ইরানি হামলার আশঙ্কায় বিমান পরিবর্তন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-07-2026 ইং
  • 4512 বার পঠিত
ইরানি হামলার আশঙ্কায় বিমান পরিবর্তন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশন: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমিই হিটলিস্টের এক নম্বরে’; তুরস্ক থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামানোর নির্দেশ, ট্রাম্পের আকাশ-নিরাপত্তায় পেন্টাগন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনা এবং ইরানের ৫ প্রদেশে মার্কিন বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণের পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। এমন এক স্পর্শকাতর ও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝেই তুরস্ক সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সম্ভাব্য আকাশপথের হামলা ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় কাতারের আমির কর্তৃক উপহার দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন বিলাসবহুল বোয়িং জেট বিমানটি মাঝপথেই ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। নিজে দেশে ফেরার জন্য তড়িঘড়ি করে বেছে নিয়েছেন অপেক্ষাকৃত পুরোনো ও বিশেষভাবে সুরক্ষিত একটি এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান।

হোয়াইট হাউসের দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড-ইন-চিফের (প্রেসিডেন্ট) সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই পুরোনো ৭৪৭-২০০ বিমানটি সম্পূর্ণ নিজস্ব সামরিক তত্ত্বাবধানে বিশেষভাবে তৈরি ও পরীক্ষিত ছিল। অন্যদিকে, কাতারের অনুদান হিসেবে দেওয়া নতুন বিমানটি সম্প্রতি মার্কিন বিমান বহরে যুক্ত করার জন্য দ্রুত পরিমার্জন করা হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও নিরাপত্তা কর্মীরা পুরোনো বিমানটিতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বহন করতে বেশি নিরাপদ বোধ করেছেন।

‘হত্যার তালিকায় আমিই এক নম্বরে আছি’

যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে যে এই মুহূর্তে ট্রাম্পের ওপর সুনির্দিষ্ট বা নতুন কোনো হামলার তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না, তবে তুরস্কের সীমান্তঘেঁষা ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প নিজেই তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “বিশ্বজুড়ে উগ্রবাদীদের হত্যার তালিকায় আমি বর্তমানে এক নম্বরে আছি।” প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ও এর আগে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের খবরটি বিশদভাবে প্রকাশ করেছিল।

নতুন বিমানটির চেয়ে পুরোনো বিমানটি ঠিক কেন বেশি নিরাপদ, তা সামরিক গোপনীয়তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে পেন্টাগন স্পষ্ট করেনি। তবে বিষয়টির সাথে পরিচিত দুটি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং যুদ্ধকবলিত অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় পূর্ণ সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কিছু বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে কাতারের নতুন বিমানটিতে।

ন্যাটো সম্মেলন শেষ করে ট্রাম্প তুরস্ক ত্যাগ করার আগেই কাতারের দেওয়া বিমানটি ইংল্যান্ডের মাইল্ডেনহল বিমান ঘাঁটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রাম্প দাবি করেন, ঘাঁটিতে নিয়োজিত মার্কিন সেনাসদস্যদের বিমানটি ঘুরে দেখার সুযোগ করে দিতেই এটি আগে পাঠানো হয়েছে। তিনি লিখেন, “সেনারা বিমানটি দেখতে খুব উত্তেজিত, তাই আমরা ভাবলাম ওরাই প্রথম এটি দেখুক।”

সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামানোর নির্দেশ ও ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাজ্যের একটি সুরক্ষিত বিমান ঘাঁটিতে বিমান পরিবর্তন করার পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছুটা মিশ্র ও রহস্যময় বক্তব্য দেন। তিনি প্রথমে বলেন, “কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল না, আমরা কেবল বিমানটি একটু আগে পাঠিয়েছি।” কিন্তু আঙ্কারা বিমানবন্দর থেকে বিমানটি ওড়ার সময় বিমানে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে অন্ধকার করে রাখতে বলার কারণ জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, ইরানের নিরাপত্তা হুমকি এর একটি বড় কারণ হতে পারে।

ট্রাম্প মন্তব্য করেন:

“ইরানের কিছু নোংরা ও অসুস্থ মানসিকতার লোকের কারণে এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। এরা যেকোনো কিছু করতে পারে, তাই এমন কিছু ঘটা অসম্ভব নয়।”

তবে সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামানোর অফিশিয়াল নির্দেশের বিষয়টি তিনি আগে থেকে জানতেন না বলে দাবি করেন।

কাতার সরকারের দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই নতুন জেট বিমানটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় আইনি, নৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তার নানা প্রশ্ন উঠছিল। মার্কিন বিমান বাহিনী দাবি করেছে, বিমানটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রেসিডেন্টের মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সামরিক কর্মকর্তা জানান, সিক্রেট সার্ভিস মনে করে এই ৭৪৭ বিমানটিকে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে। কারণ এতে অত্যন্ত গোপনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

তুরস্ক থেকে ট্রাম্পকে বহনকারী পুরোনো বোয়িং ৭৪৭-২০০ বিমানটিতে মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার (Mid-air Refueling) সুবিধাসহ অত্যন্ত বিশেষায়িত এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মতো উন্নত আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা রয়েছে, যা এই মুহূর্তে ট্রাম্পের জীবন সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেছেন মার্কিন জেনারেলরা।

এক নজরে ট্রাম্পের বিমান বদল ও ইরানের আকাশ হুমকি (১০ জুলাই, ২০২৬)

  • জরুরি বিমান বদল: ইরানের বিমান হামলার ঝুঁকির মুখে কাতারের দেওয়া নতুন বিমান বাদ দিয়ে পুরোনো বিমানে চড়লেন ট্রাম্প

  • মাইল্ডেনহলে প্রেরণ: ৪০০ মিলিয়ন ডলারের কাতার বিমানটি আগেই ইংল্যান্ডের মাইল্ডেনহল বিমান ঘাঁটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়

  • হিটলিস্টে ট্রাম্প: তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, উগ্রবাদীদের হত্যার তালিকায় তিনি বর্তমানে এক নম্বরে আছেন

  • জানালার পর্দা বন্ধ: আঙ্কারা থেকে ওড়ার সময় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামানোর নির্দেশ

  • পুরোনো বিমানের সক্ষমতা: ট্রাম্পের পুরোনো বিমানে মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরা ও উন্নত মিসাইল ডিফেন্স জ্যামিংয়ের বিশেষ সুবিধা রয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ২০২৬, কাতারের উপহার বোয়িং ৭৪৭ ও সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা সেল

ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পর হোয়াইট হাউসের বিশেষ ব্রিফিংয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হলো কিনা, পেন্টাগন কাতারের বিমানটিকে স্থায়ীভাবে বাতিল করল কিনা এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency