আনিস আলমগীরের মন্তব্য: ‘চেতনা’ এবং সুবিধাবাদীদের হাতে এর অপব্যবহার
সম্প্রতি, কলামিস্ট ও সাংবাদিক আনিস আলমগীর তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে একের পর এক তীব্র মন্তব্য করেছেন, যা বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, চেতনাবাজি এবং সুবিধাবাদী নেতাদের উত্থান নিয়ে এক গভীর আলোচনা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, "চেতনা গাছে ফলতেও না, আকাশে উড়তেও না—চেতনা মানুষ ধারণ করে। সেটি হোক একাত্তরের কিংবা জুলাই ২০২৪-এর"।
আনিস আলমগীরের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির ভেতর গেঁথে থাকা সুবিধাবাদী নীতি, চেতনার নামে ব্যবসায়িক প্রবণতা, এবং সত্যিকারের আদর্শের অভাব তুলে ধরেছেন। তার মতে, যখন জনগণ দেখতে পায় যে ‘চেতনার’ নামে কিছু চেতনাবাজ রাতারাতি ধনী হয়ে যায়, আইন তাদের কাছে পৌঁছায় না, এবং রাষ্ট্র তাদের বিপথে সমর্থন দেয়, তখন সেটি চেতনার পণ্য হিসেবে পরিণত হয়।
আনিস আলমগীরের ভাষায়, “একাত্তরের চেতনা সুবিধাবাদীদের হাতে বন্দি ছিল, এখন জুলাইয়ের চেতনা নতুন সুবিধাবাদীদের হাতে বন্দি”। তিনি এখানে মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বর্তমান ‘জুলাই চেতনা’–এর মধ্যে বিরাট পার্থক্য তুলে ধরেছেন। একাত্তরের চেতনা, যেটি ছিল দেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তির জন্য, আজ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি এবং ক্ষমতার লোভে ব্যবহার হচ্ছে।
বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে একটি বিপথগামী প্রবণতা, যেখানে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পক্ষে যারা ছিল, তারা এখন ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জন্য কোটা দাবি করে! এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, চেতনার নামে এক ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া হচ্ছে, যা আদর্শ থেকে অনেক দূরে।
আনিস আলমগীরের মন্তব্যের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার বিশ্বাস যে, চেতনা কখনোই চাপিয়ে দেওয়া যায় না, বরং তা মানুষের হৃদয়ে এবং ব্যক্তিগত উদাহরণ দিয়ে তৈরি হতে হয়। তিনি বলেন, “চেতনা জাগাতে হলে নিজের জীবন আচরণ দিয়ে তা ধারণ করতে হয়, কলাম লিখে নয়”। অর্থাৎ, কোনো রাজনৈতিক নেতার আদর্শ এবং স্লোগান জনগণের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে হলে তাকে নিজের উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, না হলে তা অসার হয়ে যাবে।
আনিস আলমগীর তার পোস্টে বিশ্বের উদাহরণ দিয়ে এই ধারণাকে আরো শক্তিশালী করেছেন। তিনি ইরানের ইসলামী বিপ্লব, ভেনিজুয়েলার বলিভার বিপ্লব, এবং মিসরের তাহরির স্কয়ার আন্দোলনের উল্লেখ করেন, যেখানে চেতনা এবং বিপ্লবের নামে অনেক সময় রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধ করেছে। তার মতে, যখন আন্দোলন এবং বিপ্লবের নাম হয় ক্ষমতার পরিবর্তন, তখন বাস্তবের পরিবর্তন আসেনি, বরং ক্ষমতার কেন্দ্র শুধু নতুন মুখে রূপান্তরিত হয়েছে।
এখন আসা যাক, ‘জুলাই চেতনা’ সম্পর্কে আনিস আলমগীরের বিশ্লেষণে। তিনি বলছেন যে, জুলাই চেতনার কার্যক্রম শুধুই নাটক এবং স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। “এই অবস্থায়, যখন 'চেতনা' শব্দটা ভোঁতা হয়ে যায়, তখন জনগণ বুঝে যায় যে, চাপিয়ে দেওয়া আদর্শ কখনোই টেকে না।” তার মতে, চেতনা যখন জনগণের হৃদয়ে প্রবাহিত হয়, তখন সেটি টিকে থাকে, না হলে তা ব্যবসায়িক পণ্য হয়ে যায়।
আনিস আলমগীরের মতে, রাজনৈতিক আদর্শ বা চেতনা হলো সেই শক্তি, যা জনগণের হৃদয়ে প্রবাহিত হতে হবে। এটি ব্যক্তিগত জীবনের উদাহরণ হিসেবে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হয়, আর তা হতে হবে প্রতিদিনের কাজে, কথায়, এবং জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে।
অথচ এখনকার রাজনীতি হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বার্থে চেতনা বিক্রি করা, যেখানে জনগণের চাহিদার বদলে রাজনৈতিক দলগুলি তাদের আদর্শের পরিবর্তে সুবিধাবাদী কৌশল ব্যবহার করছে।
আনিস আলমগীরের মন্তব্যের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের রাজনীতির ভয়াবহ বাস্তবতা এবং সুবিধাবাদী রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্র দেখতে পাচ্ছি। একদিকে যখন ‘চেতনা’ নামে জনগণের মধ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং সমাজ সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, তখন তার সত্যিকার অর্থে তা স্বার্থপর ও রাজনৈতিক ব্যবসায়িক কৌশলে পরিণত হচ্ছে।
এখনকার রাজনীতিতে, জনগণের বিশ্বাস এবং সংস্কার থেকে বিচ্যুত হয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন এবং উন্নতির জন্য ক্ষতিকর।
রাজনৈতিক নেতাদের উচিত জনগণের সামনে তাদের আদর্শকে প্রমাণ করা, তাদের চাহিদা এবং অধিকারকে সম্মান করা, যাতে চেতনা শুধু স্লোগান বা নাটক না হয়ে বাস্তব এবং কার্যকর পরিবর্তন নিয়ে আসে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |