সংসদীয় প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬
বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ, স্থায়ী ও দ্রুততম সমাধানে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সংকটের টেকসই সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের তারকা চিহ্নিত সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক জরুরি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মো. সেলিম রেজার প্রশ্নটি ছিল— রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা? থাকলে সেটা কী, এবং কবে নাগাদ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে?
গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নের জন্য সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে গঠিত আমাদের এই সরকার রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুততম সমাধানে বদ্ধপরিকর। অতীতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের ঐতিহাসিক সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন:
“ইতোপূর্বে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার সফল ও দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সেসময়ে উদ্ভূত রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান করেছিলেন। তাঁদের সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় সেই সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ও সসম্মানে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পেরেছিল।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়েও পূর্বের সেই সফল নীতির আলোকেই আমরা টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছি। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সব ফ্রন্টেই অত্যন্ত জোরালো ও নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করার লক্ষ্যে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ ও দাতা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএনএইচসিআর (UNHCR), ইউএন ওমেন (UN Women) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রগ্রাম (WFP)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহ পরিদর্শন করেছেন।
তিনি আরও জানান, চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে মানবিক ও কূটনৈতিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বিশ্বজনমতকে সম্পৃক্ত করার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণসমূহ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক ও আইনি সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তাছাড়া মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি কনফিডেন্স বিল্ডিং (Confidence Building)-এর ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রক্রিয়া প্রয়োগের বিষয়টি আমাদের বিবেচনাধীন। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ বা ভ্যারিফিকেশনের কাজ নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান আছে।”
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার ওপর। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার (জান্তা) ও আরাকান আর্মির (AA) মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সঙ্গে সংলাপ জোরদার করেছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সরকার সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্যাম্পসমূহের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্বাগতিক বা স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকগণের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
এর পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় কৌশলগত নীতিনির্ধারণ ও অধিকতর সমন্বয়ের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করছে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে এ বিপুল সংখ্যক বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সসম্মানে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা: রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর।
ঐতিহাসিক রেফারেন্স: ১৯৭৮ সালে শহীদ জিয়া এবং ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সফল নীতির আলোকেই ফিরবে রোহিঙ্গারা।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংলাপ: রাখাইনে স্থিতিশীলতার জন্য মিয়ানমার জান্তা ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপের ওপর বিশেষ জোর।
আইনি সমর্থন: আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন বহাল।
ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা: ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারকিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সার্বক্ষণিক সক্রিয়।
সংসদীয় প্রতিবেদক | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ, তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্যের পর মিয়ানমারের জান্তা সরকার বা আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে কোনো সীমান্তভিত্তিক প্রতিক্রিয়া এসেছে কিনা, কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং তৃতীয় কোনো দেশে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সবশেষ খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |