সংস্কৃতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সংগঠনটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা তাঁদের নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক দুটি পোস্টের মাধ্যমে তাঁরা এই কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ছাড়লেও তাঁরা দুজনেই ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মূল দায়িত্বে বহাল থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারী) যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে এবং বিদ্যমান সব আইনি দলিল-দস্তাবেজের ভিত্তিতে ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’ প্রকৃত দাবিদারদের কাছে হস্তান্তর করার যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাবের এবং জুমা।
ফেসবুক পোস্টে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের লেখেন,
“শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তিনি তা শেষ করে যেতে পারেননি।”
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি ‘জনতার আমানত’ হিসেবে পরিচালিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয়টির একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হলেও দিন দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জাবের আরও উল্লেখ করেন, “আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তাঁর ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা তাঁর ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের পেছনে গভীর উদ্বেগ ও কারণগুলো সামনে এনেছেন। তিনি জানান, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বড় বড় রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি সম্পূর্ণ ‘বাংলাদেশপন্থী সংস্কৃতির’ স্বার্থে ইনকিলাবে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটি তার মূল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
জুমা জানান, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর ওয়ারিশ-সংক্রান্ত জটিলতা প্রকাশ্যে আসে। ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা করা হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে এই ওয়ারিশ-সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি, অপপ্রচার ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে মারাত্মক মানসিক চাপে পড়েন।
শহীদ ওসমান হাদির সম্মানের দিকে তাকিয়ে কালচারাল সেন্টারটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ডাকসুর এই নেত্রী আরও বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের আগে পরিচালিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো আইনি কারণে ফ্রিজ (জব্দ) করা হলেও, এরপর থেকে আমার দায়িত্বকালীন সময়ের সেন্টারের যাবতীয় আর্থিক হিসাব-নিকাশ খুব দ্রুত জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে।” সবশেষে তিনি যোগ করেন, “ইনকিলাবের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে এবং এই সংগ্রাম অন্য কোনো মাধ্যমে চলবে।”
পদত্যাগ: ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন আব্দুল্লাহ আল জাবের ও ফাতিমা তাসনিম জুমা।
মঞ্চে বহাল: কালচারাল সেন্টার ছাড়লেও জাবের ও জুমা দুজনেই ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর দায়িত্বে থাকছেন।
সংগঠন হস্তান্তর: শহীদ ওসমান হাদির উত্তরাধিকারীদের দাবির মুখে তাদের কাছেই সেন্টারটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত।
রাজনৈতিক উদ্বেগ: সংগঠনটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করায় জুমার আপত্তি ও পদত্যাগ।
আর্থিক স্বচ্ছতা: দায়িত্বকালীন সময়ের সব আর্থিক হিসাব দ্রুত জনগণের সামনে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি জুমার।
সংস্কৃতি ডেস্ক | জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪, ইনকিলাব মঞ্চ, শহীদ ওসমান হাদি ও বাংলাদেশপন্থী সংস্কৃতি সেল
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের মালিকানা শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে কে বুঝে নিচ্ছেন, জাবের ও জুমার পদত্যাগের পর ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর নতুন রাজনৈতিক রূপরেখা কী হতে যাচ্ছে এবং সেন্টারের দায়িত্বকালীন অডিট বা আর্থিক হিসাব প্রকাশের সবশেষ খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |