| বঙ্গাব্দ

কারাগারে নৈতিকতা শিক্ষা: ৬৮টি কারাগারে শিক্ষক নিয়োগ ও বই বিতরণ শুরু

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-08-2025 ইং
  • 4352563 বার পঠিত
কারাগারে নৈতিকতা শিক্ষা: ৬৮টি কারাগারে শিক্ষক নিয়োগ ও বই বিতরণ শুরু
ছবির ক্যাপশন: কারাগারে নৈতিকতা শিক্ষা

কারাগারে নৈতিকতা শিক্ষা কর্মসূচি: ৬৮টি কারাগারে বই, শিক্ষক ও ধর্মচর্চার ব্যবস্থা


প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৯ আগস্ট ২০২৫

দেশের ৬৮টি কারাগারে প্রায় ৭০ হাজার কয়েদি ও হাজতিকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির আওতায় ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ওয়ার্ডভিত্তিক নামাজের ব্যবস্থা, নৈতিকতা ভিত্তিক বইপুস্তক ও জায়নামাজ বিতরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,

“কারাগারে ভিন্ন ধর্মালম্বী কয়েদিরাও নিজ নিজ ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়নের সুযোগ পাচ্ছেন। অল্প দিনের মধ্যে প্রথম কিস্তিতে বিপুল সংখ্যক ধর্মীয় বই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে।”

কর্মসূচির বাস্তবায়ন

  • চট্টগ্রাম ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা।

  • কেরানীগঞ্জ কারাগারে ইতোমধ্যে ২,৫০০ বন্দি পবিত্র কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

  • ইসলামি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কারাগারে লাইব্রেরি পরিচালনা ও ধর্ম শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

  • বর্তমানে প্রতি কারাগারে অন্তত একজন ধর্মীয় শিক্ষক রয়েছেন, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে।

কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ার লক্ষ্য

ড. খালিদ হোসেন বলেন,

“কারাগারে থাকা সবাই অপরাধী নয়, অনেকেই মিথ্যা মামলায় বন্দি। আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না। আমরা চাই, কারাগারকে প্রকৃত অর্থে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে।”

তিনি মনে করেন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষা বন্দিদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে, যাতে মুক্তির পর তারা সুষ্ঠু জীবনযাপন করতে পারে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৫০–২০২৫)

  • ১৯৫০–১৯৭১: পাকিস্তান আমলে কারাগারগুলোতে ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম ছিল প্রায় নেই বললেই চলে।

  • ১৯৭১–১৯৯০: স্বাধীনতার পর কিছু কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলেও তা ছিল সীমিত আকারে।

  • ১৯৯১–২০০৬: রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মানবাধিকার সংস্থাগুলো কারাবন্দিদের মৌলিক অধিকার ও নৈতিক শিক্ষা নিয়ে প্রচারণা চালায়।

  • ২০০৭–২০০৮: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাগার সংস্কারে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও ধারাবাহিকতা ছিল না।

  • ২০১০–২০২০: কারাগার আধুনিকীকরণ প্রকল্পে শিক্ষা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে নতুন দিক যুক্ত হয়, তবে তা পূর্ণাঙ্গ ছিল না।

  • ২০২৪–২০২৫: জুলাই আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষা কর্মসূচি হাতে নেয়।

বিশ্লেষণ

  1. পুনর্বাসনের সুযোগ: ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষা বন্দিদের মানসিক পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে।

  2. মানবাধিকার চর্চা: বিভিন্ন ধর্মের বন্দিদের সমান সুযোগ দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  3. দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: সঠিক বাস্তবায়ন হলে এটি পুনরায় অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা কমাতে পারে।

  4. চ্যালেঞ্জ: শিক্ষক সংকট, বই সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং বন্দিদের মানসিক প্রস্তুতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

সূত্র

  1. বাসস – ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সাক্ষাৎকার

  2. বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তর – কারাগার সংস্কার ও নৈতিক শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য

  3. গুগল নিউজ আর্কাইভ – কারাগারে পুনর্বাসন ও ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমের ইতিহাস

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency