বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ ও প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০ জুন ২০২৫, শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে অনুষ্ঠিত একটি রুকন শিক্ষাশিবিরে তিনি বলেন, “দ্বীনের কায়েম ফরজ, এটি কোন ঐচ্ছিক ইবাদত নয়।” এ বক্তব্য শুধু একটি ধর্মীয় আহ্বান নয়—এটি একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ, যার শেকড় গভীরভাবে ইতিহাসে প্রোথিত।
মিরপুর-১৩ এর ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই রুকন শিক্ষাশিবিরে পল্লবী, কাফরুল ও মিরপুর জোন জামায়াতের রুকনরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বক্তৃতা দেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদ্য কারামুক্ত সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, ইয়াছিন আরাফাত, মুফতি ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন—
“৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলাম নেই। ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে ইসলাম পালন যথেষ্ট নয়; ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা না হলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন অসম্ভব।”
জামায়াতে ইসলামীর “ইসলামী শাসনব্যবস্থা” প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন নয়।
১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি "নবী করীম (সা.)-এর রাষ্ট্রনীতি" অনুসরণে এক আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছে।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে দলটির ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনীতিতে বারবার প্রভাব ফেলেছে।
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে, জামায়াত বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং সংসদে প্রতিনিধিত্বও অর্জন করে।
২০০১–২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অংশ হিসেবে মন্ত্রিত্ব পায়, কিন্তু ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দলটির অনেক শীর্ষ নেতাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়।
এই ঘটনাগুলো জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করলেও, তাদের “দাওয়াত ও তাজকিয়া ভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন” এখনো চালু আছে।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে মূল যে বার্তাটি উঠে আসে তা হলো—"ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার তাগিদ"।
এই বক্তব্য দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। একদিকে এটি ধর্মীয় সমর্থকদের মাঝে তীব্র আবেগ জাগায়, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে নানা বিতর্ক ও মতভেদ সৃষ্টি করে।
বিশ্লেষক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (কাল্পনিক), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বলেন—
“জামায়াত এখন ‘আন্তরিক দাওয়াত’ এবং 'তাজকিয়ার মাধ্যমে' জনগণের হৃদয়ে স্থান নিতে চাইছে, যদিও তাদের অতীত ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।”
এ বক্তব্য রাষ্ট্রে ধর্মভিত্তিক আইনের প্রতিফলন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দেয়।
✦ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা:
জামায়াত নতুন প্রজন্মের মাঝে দাওয়াত ও শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করে সংগঠনকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
সামাজিক গণমাধ্যম ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তারা “ইসলামী আদর্শ” প্রচারে মনোযোগী।
✦ চ্যালেঞ্জ:
রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা।
যুদ্ধাপরাধ বিচার ইস্যুতে জনমনে নেতিবাচক ধারণা।
ধর্ম ও রাজনীতির মেলবন্ধন নিয়ে বেড়ে চলা বিতর্ক।
✦ প্রস্তাবিত পদক্ষেপ:
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি জামায়াত “গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কৌশল” বেছে নেয় এবং অতীত ভুলগুলোর জন্য জাতির সামনে দুঃখ প্রকাশ করে, তবে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার জায়গা তৈরি হতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে শুধুই ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন ঘটে।
বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ইসলামিক আইন প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন সবসময়ই বিতর্কিত।
এই বাস্তবতায়, জামায়াতে ইসলামী কীভাবে নিজেদের পুনরায় প্রাসঙ্গিক করে তোলে, সেটাই আগামী দিনের মূল প্রশ্ন।
প্রশ্ন ১: জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য কী?
উত্তর: ইসলামকে রাষ্ট্রীয় জীবনব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করা এবং শরিয়াহভিত্তিক ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠন।
প্রশ্ন ২: ইসলামী আন্দোলন কি বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক?
উত্তর: বিষয়টি বিতর্কিত। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতিমালার মধ্যে শরিয়াহ আইন চালু করা কঠিন।
প্রশ্ন ৩: জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রম কি বর্তমানে নিষিদ্ধ?
উত্তর: হ্যাঁ, দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও তারা সামাজিক ও দাওয়াতি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন ৪: ডা. শফিকুর রহমান কে?
উত্তর: তিনি জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন ৫: এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য কী?
উত্তর: এটি দলটির সক্রিয় হওয়ার বার্তা এবং নতুন কৌশলের সূচনার ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |