গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড: শোক, ক্ষোভ ও স্বাধীনতা–উত্তর সাংবাদিক নিরাপত্তার দীর্ঘ সংকট
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৮ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: যুগান্তর, গাজীপুর প্রতিনিধি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য
গাজীপুরে নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের জানাজায় অংশ নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক। জানাজার ময়দানে দাঁড়িয়ে তিনি তুহিনের জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, “তুহিন আমাদের পরিবারের একজন সদস্য ছিল। যদি কখনো আমার কোনো আচরণে কষ্ট দিয়ে থাকি, আমি আপনাদের সামনে মাথা নিচু করে ক্ষমা চাই। ওর ঋণ আমারও, আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
রফিক আরও জানান, তুহিন একটি ছোট ব্যবসা করতেন এবং অনেকের কাছে টাকা পাওনা ছিল। তিনি অনুরোধ করেন, “তুহিনের কাছে যারা বাকি রেখেছেন, দয়া করে সেই টাকা পরিশোধ করুন। ওর পরিবারের দিকে তাকিয়ে দিনটি সহজ করে দিন।”
নিহতের ছোট ভাই মো. সেলিম হোসেন বাসন থানায় ২০–২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। বাসন থানার ওসি শাহীন খান জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মামলাটি রেকর্ড হয়।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় মসজিদ মার্কেটের কাছে শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাংবাদিক তুহিনকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের।
১৯৫০–৭০: পূর্ব পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক প্রতিবেদন করা সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে।
১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বহু সাংবাদিককে হত্যা বা নির্যাতন করা হয়।
১৯৭৫–৯০: সামরিক শাসনামলে সংবাদপত্রের ওপর কড়া সেন্সরশিপ এবং সাংবাদিক নিপীড়ন বাড়ে।
১৯৯১–২০০৫: গণতান্ত্রিক সরকারগুলোতে কিছুটা স্বাধীনতা এলেও দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিবেদন করা সাংবাদিকরা ঝুঁকিতে ছিলেন।
২০০৯–২০২৩: ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে একাধিক সাংবাদিক হামলার শিকার হন।
২০২৫: গাজীপুরে তুহিন হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা এখনো গুরুতর ঝুঁকির মুখে।
১৯৫০: সংবাদপত্র আইনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ শুরু।
১৯৭১: স্বাধীনতার পর সংবিধানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা স্বীকৃতি।
১৯৭৫: রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ ও পত্রিকা বন্ধের ঘটনা।
১৯৯০: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরও সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া।
২০০৪: সাংবাদিক দম্পতি সাগর–রুনি হত্যার মতো অমীমাংসিত ঘটনা।
২০১৮: ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের সমালোচনা ও সাংবাদিক গ্রেপ্তার।
২০২৫: তুহিন হত্যাকাণ্ডে আবারও সাংবাদিক নিরাপত্তা প্রশ্নে জাতীয় আলোচনার সূত্রপাত।
তুহিন হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রতিচ্ছবি। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকরা রাজনৈতিক ও অপরাধী গোষ্ঠীর হামলার শিকার হয়েছেন। তুহিনের মৃত্যু আবারও প্রমাণ করল—সাংবাদিক নিরাপত্তা কেবল আইন পাসে সীমাবদ্ধ থাকলে কার্যকর হবে না; এর জন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও দ্রুত বিচার।
যুগান্তর (প্রকাশিত প্রতিবেদন)
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আর্কাইভ (১৯৭৩–২০২৪)
সাংবাদিক নির্যাতন মনিটরিং সেল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (২০২৫)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |