আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, উচ্চপদস্থ সরকারি প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা ইরানের রাজধানী তেহরানে এসে পৌঁছেছেন। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করা শুরু হলে বিশ্বনেতাদের এই ঐতিহাসিক আগমনের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি এক আকস্মিক যৌথ সামরিক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধ এবং তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। সেই ঘটনার পর এই ধর্মীয় নেতার শেষ বিদায়ে মুসলিম বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুখ তেহরানে শামিল হয়েছেন।
শোকাবহ এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শুক্রবার সকালেই বিশেষ বিমানে তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি, ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ আল-হালবুসি, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। এ ছাড়া কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের (KRG) প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি এবং উজবেক পার্লামেন্টের স্পিকার নুরিদ্দিন ইসমাইলভসহ মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা তেহরানে পা রেখেছেন।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কেবল বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরাই নন, এই জানাজায় অংশ নিতে হাজির হয়েছেন:
ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ ভূখণ্ডের শীর্ষ ধর্মীয় পণ্ডিত ও আলেম সমাজ।
রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের অর্থোডক্স ও মুসলিম ধর্মগুরু এবং তুরস্কের রাজনৈতিক প্রতিনিধি দল।
লেবাননের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভারতীয় সরকারের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল।
থাইল্যান্ডের শিয়া মুসলিম গোষ্ঠীগুলোর শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।
এ ছাড়া লেবাননের হিজবুল্লাহর উচ্চপদস্থ প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং বুলগেরিয়ান রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধিরা খামেনির স্মরণে তেহরানে পৃথক বিশেষ শোকসভার আয়োজন করেছেন।
আজ শুক্রবার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে তেহরানের প্রধান সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক মূল শোকসভা সম্পন্ন হচ্ছে।
ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় কমিটির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের মুসাল্লা প্রাঙ্গণে জনসাধারণের জন্য বিদায়ী অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে। এরপর আগামী সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানের রাজপথে স্মরণকালের বৃহত্তম মূল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে:
৭ জুলাই: খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরানের পবিত্র নগরী কোমে (Qom)।
৮ জুলাই: কড়া নিরাপত্তায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালার পবিত্র শিয়া মাজারগুলোতে, যেখানে পৃথক শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
৯ জুলাই: পরিশেষে, আগামী বৃহস্পতিবার শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান মাশহাদের (Mashhad) ঐতিহাসিক ইমাম আলী রেজা মাজারে আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমেই সপ্তাহব্যাপী চলা এই ঐতিহাসিক ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
বিশ্বনেতাদের আগমন: জানাজায় যোগ দিতে তেহরানে পাকিস্তান, ইরাক, তাজিকিস্তান ও আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি।
ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় নিহত হন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি।
বহুত্ববাদী অংশগ্রহণ: হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনি আলেম, রুশ ধর্মগুরু এবং ভারত ও থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের যোগদান।
শোকের রুটিন: ৪-৫ জুলাই তেহরানে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ৬ জুলাই তেহরানে মূল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শোভাযাত্রা।
চূড়ান্ত দাফন: ৭ জুলাই কোমে এবং ৮ জুলাই ইরাক ঘুরে ৯ জুলাই মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্য ব্যুরো ও বিশেষ কূটনৈতিক সেল
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা (Supreme Leader) নির্বাচনে বিশেষজ্ঞ পরিষদের (Assembly of Experts) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটির ওপর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) নতুন সতর্কতা এবং তেহরানের সব এক্সক্লুসিভ খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |