| বঙ্গাব্দ

চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর রাজনীতি ইসলামের পক্ষে: চরমোনাই পীর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-09-2025 ইং
  • 3982316 বার পঠিত
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর রাজনীতি ইসলামের পক্ষে: চরমোনাই পীর
ছবির ক্যাপশন: চরমোনাই পীর

“চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর রাজনীতি ইসলামের পক্ষে”—চরমোনাই পীর রেজাউল করিম

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

গণসমাবেশে হুঁশিয়ারি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেছেন,

“চব্বিশের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে তা এখন ইসলামের পক্ষে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন করলে জনগণ সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করবে।”

তিনি এ কথা বলেন শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রাজধানীর বাড্ডা ইউলুপ সংলগ্ন মেইন রোডে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গণসমাবেশে।

স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও অপূর্ণ স্বপ্ন

রেজাউল করিম বলেন,

  • স্বাধীনতার সময় যে তিনটি মূল স্লোগান ছিল— সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার—তা এখনো পূর্ণ হয়নি।

  • ৫৩ বছরে যে শক্তিগুলো দেশ শাসন করেছে তারা জনগণের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।

  • জনগণ এখন বুঝতে শিখেছে, পুরনো রাজনৈতিক শক্তি পুনরায় ক্ষমতায় এলে তাদের ‘সুবর্ণ প্রতিশ্রুতি’ কেবল নিজেদের স্বার্থেই কাজে লাগবে।

ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান

তিনি বলেন,

“আমাদের নীতি-আদর্শ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে নয়। এর ভেতরেই সব শ্রেণির মানুষের অধিকার নিশ্চিত—মা, বোন, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী—সবাই যেন মর্যাদা ও ন্যায়ের অধিকার ভোগ করতে পারে।”

তার দাবি, ইসলামী আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক শক্তি নয়; বরং এটি একটি নৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের আন্দোলন।

পরিবর্তনের আহ্বান

  • রেজাউল করিম জোর দিয়ে বলেন, এখন পরিবর্তন সময়ের দাবি।

  • ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতার কারণে জনগণের আশা ভঙ্গ হয়েছে।

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সঠিক নেতৃত্ব ও ন্যায্য অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তন আনে। শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং জুলাই সনদ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছে।


বিশ্লেষণ

১. ইসলামের পক্ষে রাজনীতি: চরমোনাই পীরের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা তারা ইসলামী শক্তির জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছে।
২. জুলাই সনদ নিয়ে চাপ: ইসলামী আন্দোলন জনগণের পক্ষে ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে। এতে তাদের অবস্থান কেবল সরকার নয়, ঐকমত্য কমিশনের প্রতিও বার্তা বহন করছে।
৩. নৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্ব: রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, বরং নৈতিক নেতৃত্ব ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে তারা মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছে।
৪. ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব: যদি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের নীতি ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সংগঠিত হতে পারে, তাহলে তরুণ ও গ্রামীণ ভোটারদের একটি অংশ তাদের দিকে ঝুঁকতে পারে।


সূত্র

  1. যুগান্তর পত্রিকা, রাজনৈতিক সংবাদ (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫)

  2. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (জুলাই অভ্যুত্থান, জুলাই সনদ)

  3. উইকিপিডিয়া: Aftermath of the July Revolution in Bangladesh

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency